নেপালে বন্যায় নিহত অশনাক্ত মরদেহের গণদাফন শুরু

কাঠমান্ডু, ৩০ আগস্ট – নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় উদ্ধার হওয়া পরিচয়হীন ও দাবিদারহীন মরদেহগুলো দাফনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটির প্রশাসন। পচন ধরা এবং সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে এই জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
চিতওয়ানের হাসপাতালগুলোতে মর্গ সংকটের কারণে অস্থায়ী স্থাপনায় রাখা মরদেহগুলো থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন দাফনের পথে হাঁটছে। তবে মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে একটি স্বতন্ত্র শনাক্তকরণ নম্বর প্রদান করা হচ্ছে।
প্রতিটি লাশ দেড় মিটার গভীর কবরে রাখা হচ্ছে এবং ব্যাগে নম্বর লিখে রাখা হচ্ছে যাতে প্রয়োজনে পরে তোলা সহজ হয়। প্রতিটি কবরের ওপর একটি কংক্রিটের ফলক থাকবে এবং পুরো দাফন প্রক্রিয়াটি জিও-ট্যাগিং ও ভিডিওর মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। শনিবার বিকেল পর্যন্ত শতাধিক মরদেহের ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের নির্ধারিত কেন্দ্রে ডিএনএ নমুনা প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে ডিএনএ মিলে গেলে পুলিশ নির্দিষ্ট নম্বর দেখে কবর শনাক্ত করবে এবং মরদেহ স্বজনদের বুঝিয়ে দেবে। এছাড়া পরিচয়হীন মরদেহগুলোর তথ্য পুলিশের একটি বিশেষ ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে।
গত ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট এই বন্যায় এ পর্যন্ত ৭৩৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। বন্যায় নেপাল ও চীন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নেপালে এখনো প্রায় তিন হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
বর্তমানে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং ৩৭টি ট্রাক ও ৭টি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিশেষায়িত মেডিকেল টিম এবং নগদ সহায়তা কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
এস এম/ ৩০ আগস্ট ২০২৬









