ব্যবসা

ফোন-অ্যাপস দিয়ে শেয়ার লেনদেনের পরামর্শ

ঢাকা, ৩১ মার্চ – করোনা সংক্রমণরোধে সরকারের নির্দেশনা মেনে শেয়ারবাজারের কার্যক্রম পরিচালনায় স্বাস্থ্য সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলতে বলা হয়েছে।

শেয়ারবাজারে লেনদেনের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের মোবাইল ফোন, ই-মেইল, অনলাইন বা অ্যাপস ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

করোনা সংক্রমণরোধে সরকারের নেওয়া ১৮ দফা সিদ্ধান্তকে শতভাগ যৌক্তক বলে মনে করে নিংন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে কমিশনসহ স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিনিয়োগকারী-দর্শনার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শেয়ারবাজারে লেনদেনের অযুহাতে অহেতুক ব্রোকারেজ হাউজে আড্ডা বা জনসমাগম না করা শ্রেয় বলে মনে করে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন : আজ ব্যাংক বন্ধ

ব্রোকারেজ হাউজে ভিড় না জমিয়ে বাসায় থেকে মোবাইলে বা ইন্টারনেটভিত্তিক লেনদেন করতে পারেন বিনিয়োগকারীরা। এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে সব ব্রোকারেজ হাউজকে পরামর্শ দেবে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জসহ ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। একইভাবে মার্চেন্ট ব্যাংকে পরামর্শ দেবে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ)।

ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ব্রোকারেজ হাউজে করোনা পরিস্থিতিতে হ্যান্ডশেক বা আলিঙ্গন না করা, পরিমিত দূরত্ব বজায় রাখা, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ক্লায়েন্টের হাঁচি-কাশি বা সন্দেহজনক লক্ষণ থাকলে তাদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া, অফিস প্রাঙ্গণে প্রবেশের জন্য প্রতিবার হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করা, ব্রোকারেজ হাউজে কর্মচারী এবং ক্লায়েন্টদের মাস্ক সরবরাহ করা, দর্শনার্থীদের অফিসে প্রবেশ করতে নিরুৎসাহিত করা হবে। শিগগির এ নির্দেশনা কার্যকরের প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো।

বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিএসইসিসহ স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারেজ হাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। একইসঙ্গে বিনিয়োগকারীদেরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এ পরিস্থিতিতে ব্রোকারেজ হাউজে ভিড় না জমিয়ে, বাসায় থেকে লেনদেন করতে পারেন বিনিয়োগকারীরা।’

ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্বে) ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন পাটোয়ারী বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে জনসমাগম নিরুৎসাহিত করতে হবে। বিশেষ করে ব্রোকারে হাউজে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে বিনিয়োগকারীরা যেন ঘরে বসে মেসেজ, ই-মেইল, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে লেনদেন করেন, সেই বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হবে।’

ডিবিএ’র সভাপতি শরীফ আনোয়ার হোসেন বলেন, করোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের নির্দেশনা সব ব্রোকারেজ হাউজকে পারিপালন করতে হবে। এক্ষেত্রে ব্রোকারেজ হাউজগুলো ও বিনিয়োগকারীদের সহায়তা প্রয়োজন। এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের মোবাইল বা অ্যাপসের মাধ্যমে খুব স্বল্প সময়ে লেনদেন করতে পারেন। তাই দলে দলে ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে ভিড় না জমাতে বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানাচ্ছি।’

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সহ-সভাপতি কাজী আব্দুর রাজ্জাক রাইজংবিডিকে বলেন, ‘সকলে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে বিনিয়োগকারীদের সচেতন হতে হবে। স্বস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে মুখে মাস্ক, হাতে গ্লাভস পড়ে ব্রোকারেজ হাউজে যাওয়া উচিত। সবচেয়ে উত্তম মোবাইলে বা অনলাইনে লেনদেন করা। এতে বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।’

সম্প্রতি দেশের করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার (২৯ মার্চ) ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করে সরকার। এর মধ্যে কর্মক্ষেত্রে মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, জনসাগম নিরুৎসাহিত করা, ৫০ ভাগ জনবলে অফিস পরিচালনা, অসুস্থ বা পঞ্চান্নোর্ধ বয়সের কর্মীদের বাসায় থেকে কাজ করাসহ সভা-সেমিনার অনলাইনে করার নির্দেশনা রয়েছে। বুধবার (৩১ মার্চ) থেকে এ নির্দেশনা কর্যকর হবে।

সূত্র : রাইজিংবিডি
এন এইচ, ৩১ মার্চ

Back to top button