দেশে টিকা গ্রহীতার সংখ্যা ৫২ লাখ ছাড়াল

ঢাকা, ২৮ মার্চ – দেশে নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়লেও এর প্রতিষেধক বা টিকা নিতে আগ্রহ কমছেই মানুষের। গতকাল শনিবার টিকা নিয়েছেন আগের দিনের চেয়ে ৫ হাজার ৩৩৯ জন কম। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টায় দেশে নতুন করে কোভিডপ্রতিরোধী ‘কোভিশিল্ড’ টিকা নিয়েছেন ৬৫ হাজার ৩৬৮ জন। আগের কর্মদিবস বৃহস্পতিবার নেন ৭০ হাজার ৪০৭ জন। গত বুধবার নিয়েছিলেন ৭৮ হাজার ৮১৭ জন। গত মঙ্গলবার নিয়েছিলেন ৭৮ হাজার ৩৩০ জন। গত সোমবার নিয়েছিলেন ৭০ হাজার ৯৩৩ জন। গত রবিবার নিয়েছিলেন ৭২ হাজার ৯২৩ জন। এর আগের দিন নিয়েছিলেন ৮০ হাজার ২২২ জন।
গত রাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গতকাল পর্যন্ত দেশে কোভিড-১৯ প্রতিরোধী টিকা নিয়েছেন ৫২ লাখ ৪ হাজার ৮২৪ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৩২ লাখ ৪৪ হাজার ৩৯৯ এবং নারী ১৯ লাখ ৬০ হাজার ৪২৫ জন। তাদের মধ্যে ৯২৭ জনের মাথাব্যথা, গলাব্যথা, হালকা জ্বরের মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। গতকাল বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৬৮ জন। ুস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্যমতে, গতকাল যারা কোভিড-১৯ প্রতিরোধী টিকা নিয়েছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ৪০ হাজার ৬৩ এবং নারী ৩০ হাজার ৩৪৪ জন। তাদের মধ্যে মাত্র দুজনের সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
আরও পড়ুন : রপ্তানির টিকা যথাসময়ে আসবে, আশা রাষ্ট্রপতির
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দেশে গতকাল যারা টিকা নিয়েছেন তাদের মধ্যে আছেন ঢাকা বিভাগে ১৬ হাজার ৭০৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৫ হাজার ৮৩০, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩ হাজার ৭৪৯, রাজশাহী বিভাগে ৭ হাজার ৯৩৯, রংপুর বিভাগে ৭ হাজার ৬০৬, খুলনা বিভাগে ৬ হাজার ৪১০, বরিশাল বিভাগে ১ হাজার ৮৯৪ এবং সিলেট বিভাগে ৫ হাজার ২৩৩ জন।
ঢাকা বিভাগের মধ্যে ঢাকা মহানগরে গতকাল টিকা নিয়েছেন ৯ হাজার ২৪ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৫ হাজার ২৪৭ এবং নারী ৩ হাজার ৭৭৭ জন।
দেশে গতকাল পর্যন্ত যতজন টিকা নিয়েছেন তাদের মধ্যে আছেন ঢাকা বিভাগে ১৬ লাখ ১৭ হাজার ৫২৮, ময়মনসিংহ বিভাগে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৩৭২, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০ লাখ ৫৪ হাজার ৫৪৪, রাজশাহী বিভাগে ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৮৬, রংপুর বিভাগে ৫ লাখ ২৯ হাজার ৬৪০, খুলনা বিভাগে ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৫০৫, বরিশাল বিভাগে ২ লাখ ৩১ হাজার ৫১৩ এবং সিলেট বিভাগে ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬৩৬ জন। ঢাকা বিভাগের মধ্যে ঢাকা মহানগরে টিকা নিয়েছেন ৮ লাখ ২১ হাজার ৭৫ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৫ লাখ ২৬ হাজার ৭৮৪ এবং নারী ২ লাখ ৯৪ হাজার ২৯১ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ১ থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন টিকা নেন যথাক্রমে ১ লাখ ১৬ হাজার ৩০০ জন, ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৮০, ১ লাখ ১৮ হাজার ৬৫৪, ১ লাখ ২১ হাজার ১০ এবং ১ লাখ ৯৮৩ জন। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি টিকা নিয়েছিলেন ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৯৬ জন। পরদিন নিয়েছিলেন ১ লাখ ৮১ হাজার ৯৮৫ জন। ২৫ ফেব্রুয়ারি নেন ১ লাখ ৮১ হাজার ৪৩৯ জন। এরপর থেকে টিকা নেওয়ার হার আরো কমতে থাকে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি টিকা নেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৩৩ জন। ২৮ ফেব্রুয়ারি নেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৭৫২ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা শুরুর দিকে বলেছিলেন, সরকার প্রতিদিন ৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে টিকা দিতে প্রস্তুত। প্রথম মাসে প্রায় ৬০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল সরকার। পরে এ সংখ্যা কমিয়ে ৩৫ লাখ ধরা হয়েছে।
গত ২৭ জানুয়ারি দেশে প্রথম কোভিডপ্রতিরোধী টিকা নেন এক নার্স। প্রথম দিন টিকা দেওয়া হয় বিশিষ্ট ২৬ নাগরিককে। পরদিন রাজধানীর পাঁচটি হাসপাতালে ৫৪১ ব্যক্তিকে টিকা দেওয়া হয়। আর ৭ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে শুরু হয় কোভিডপ্রতিরোধী গণটিকাদান কার্যক্রম। ওইদিন সারা দেশে টিকা নিয়েছিলেন ৩১ হাজার ১৬০ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ২৩ হাজার ৮৫৭ এবং নারী ৭ হাজার ৩০৩ জন।
বাংলাদেশে দেওয়া হচ্ছে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কোভিশিল্ড। সবাইকে এ টিকার দুটি করে ডোজ নিতে হবে। সরকারের কেনা এ টিকার তিন কোটি ডোজের মধ্যে প্রথম ৫০ লাখ ডোজ গত মাসে আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ ছাড়া ভারতের উপহার হিসেবে আরো ২০ লাখ ডোজ অক্সফোর্ডের টিকা পেয়েছে বাংলাদেশ। পরে দ্বিতীয় চালানে এসেছে আরো ২০ লাখ ডোজ।
সূত্র : প্রতিদিনের সংবাদ
এন এইচ, ২৮ মার্চ









