এশিয়া

মিয়ানমারে আরও ২ বিক্ষোভকারী নিহত, জান্তার ওপর বাড়ছে চাপ

নেপিডো, ২০ মার্চ – মিয়ানমারে শুক্রবার রাতে আরও দুই বিক্ষোভকারী নিহতের ঘটনায় দেশটির জান্তা সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। এশীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর পাশাপাশি পশ্চিমা দেশগুলোও মিয়ানমারের জান্তা সরকারের প্রতি নিন্দা জানিয়েছে।

এদিকে সামরিক জান্তার উপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শনিবার মিয়ানমারের অভ্যুত্থানের বিরোধীরা আরও বড় বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছেন। খবর রয়টার্সের

শুক্রবার রাতে উত্তরাঞ্চলীয় রুবি খনির শহর হিসেবে পরিচিত মোগোকে বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে আরও দুইজন নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ২৩৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিকাল প্রিজনার্স (এএপিপি) নামে একটি অধিকার সংগঠন।

গত ১ ফেব্রুয়ারি এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এরপর থেকে দেশটিতে চলছে অভ্যু্ত্থানবিরোধী বিক্ষোভ।

আরও পড়ুন : মিয়ানমারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দখল করেছে সামরিক জান্তা

এই রক্তক্ষয় নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা এবং দেশটির নেত্রী নেতা অং সান সু চিকে আটকের বিষয়ে ক্ষোভকে কমিয়ে দেয়নি বলে জানিয়েছে বিক্ষাভকারীরা। তবে তারা এখন তাদের কৌশল পাল্টাচ্ছেন।

দেশটির দক্ষিণের শহর দাউই থেকে কিয়া মিন হিটেক নামে এক বিক্ষোভকারী বলেন, পুলিশ বা সামরিক বাহিনীর সদস্যরা যেখানে থাকে না আমরা সেখানে প্রতিবাদ করছি। তারা আসছে শুনলে আমরা দ্রুত সেখান থেকে সরে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমরা আর কাউকে হারাতে চাই না। তবে আমরা সফল না হওয়া পর্যন্ত যেভাবেই হোক প্রতিবাদ চালিয়ে যাব।

শুক্রবার রাতে অন্যান্য শহরগুলোতে লোকজন মোমবাতি জ্বালিয়ে ও ব্যানার নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস শুক্রবার মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অব্যাহত সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। তার মুখপাত্র তাকে উদ্ধৃত করে বলেছেন, জরুরি ভিত্তিতে একটি দৃঢ় ও একীভূত আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া দরকার।

মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত টম অ্যান্ড্রুজ সাধারণ জনগণের ওপর জেনারেলদের নির্মম আক্রমণের ঘটনায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন।

টুইটারে তিনি লিখেছেন, বিশ্বকে তাদের অর্থ ও অস্ত্রের জোগান দেওয়া বন্ধ করতে হবে।

মার্কিন হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস এই অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়ে বিল পাস করেছে এবং আইনপ্রণেতারা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান কঠোর দমন কৌশলের নিন্দা জানিয়েছেন।

জান্তা সরকার বিক্ষোভ দমন করতে দেশটিতে ইন্টারনেট সেবা সীমিত করে দিয়েছে। বেসরকারি মিডিয়ার ওপরও চাপ বাড়িয়েছে। বেসরকারি পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে করে দেশটিতে কী ঘটছে তা জানা আরও কঠিন হয়ে গেছে।

দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুনের লাইং থারিয়ার জেলাতে গত সপ্তাহে চীনা মালিকানাধীন পোশাক কারখানায় আগুন দিয়ে হতাহতের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন পশ্চিমা দেশগুলির রাষ্ট্রদূতরা।

শুক্রবার তারা এক বিবৃতিতে বলেছেন, ইন্টারনেট বন্ধ এবং মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করেও সেনাবাহিনীর ঘৃণ্য ক্রিয়াকলাকে আড়াল করা যাবে না।

সূত্র : সমকাল
এন এইচ, ২০ মার্চ


Back to top button
🌐 Read in Your Language