পরাজিত হতে কেমন লাগে? মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবির পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে ট্রাম্প

ওয়াশিংটন, ০৮ নভেম্বর – যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির শোচনীয় পরাজয় এবং কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই মধ্যে হোয়াইট হাউজের বাইরে সাংবাদিকদের এক কঠিন ও উসকানিমূলক প্রশ্নের মুখে পড়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি। হেলিকপ্টারের দিকে হেঁটে যাওয়ার সময় এক সাংবাদিকের করা এই উত্তপ্ত প্রশ্নের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে গেছে।
যা ঘটেছিল হোয়াইট হাউজের বাইরে
গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) হোয়াইট হাউজের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত আলাপের আয়োজন করা হয়েছিল। সেদিনের আবহাওয়া অনুযায়ী ট্রাম্পের হাতে একটি বড় ছাতা দেখা যায়। সাংবাদিকদের সঙ্গে সমসাময়িক বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সংক্ষিপ্ত কথা বলার পর তিনি সেখান থেকে ঘুরে সরাসরি হেলিকপ্টারের দিকে হাঁটতে শুরু করেন।
ঠিক সেই মুহূর্তেই ভিড়ের মধ্য থেকে এক সাংবাদিক চিৎকার করে কড়া সুরে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “পরাজিত হতে কেমন লাগে?”
তবে এই আপত্তিকর ও সরাসরি আক্রমণের মুখেও ট্রাম্প কোনো থমকে দাঁড়াননি, এমনকি প্রশ্নটির কোনো প্রতিউত্তরও দেননি। তিনি নির্বিকারভাবে হেঁটে নিজের গন্তব্যে চলে যান। পরবর্তীতে ‘দ্য প্যাট্রিয়টিক ব্লন্ড’ নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে এই ঘটনার ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করা হয়, যেখানে দাবি করা হয় যে ট্রাম্প প্রচণ্ড ক্ষোভে সেখান থেকে প্রস্থান করেছেন।
ভিডিওর সত্যতা ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে ট্রাম্পকে সত্যিকার অর্থে রাগান্বিত দেখা গেছে কি না, তা শতভাগ নিশ্চিত করা যায় না। তাছাড়া, সাংবাদিকের ওই উসকানিমূলক প্রশ্নটি করার আগেই ট্রাম্প মূলত হেলিকপ্টারের দিকে হাঁটতে শুরু করে দিয়েছিলেন। ফলে সাংবাদিকের প্রশ্নের কারণেই তিনি স্থান ত্যাগ করেছিলেন কি না, তার সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ ভিডিওতে পাওয়া যায়নি।
‘দ্য নিউ রিপাবলিক’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোয়াইট হাউজের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসকে পদ থেকে সরিয়ে নিজের কট্টরপন্থী ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা স্টিফেন মিলারকে ওই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সাংবাদিকরা যখন প্রশ্ন করছিলেন, ঠিক তার পরেই এই ঘটনা ঘটে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের বিপর্যয় ও প্রশাসনের ওপর চাপ
মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য সমাপ্ত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি এক বিশাল রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের (সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ) ওপর থেকে দলটির নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হয়ে যায়। ফলে ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও ভিন্ন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে।
নির্বাচনের ভরাডুবি, হোয়াইট হাউজের অভ্যন্তরীণ শীর্ষ পদগুলোতে রদবদল এবং প্রশাসনকে ঘিরে বিরোধী শিবির ও মিডিয়ার তীব্র নজরদারির মাঝেই ঘটে যাওয়া এই ঘটনা মার্কিন রাজনীতিতে ট্রাম্পের বর্তমান নাজুক ও চাপে থাকা অবস্থাকেই স্পষ্ট করে তুলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা-কল্পনা।
এনএন/ ০৮ নভেম্বর ২০২৬







