সন্তানের রক্ত পানকারীরা আর উড়ে এসে জুড়ে বসতে পারবে না: রুহুল কবির রিজভীর হুঁশিয়ারি

ঢাকা, ০৮ নভেম্বর – ক্ষমতাচ্যুত ও ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বক্তব্য এবং সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত কড়া ও বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যেসব শাসক নিজের দেশের সন্তানের রক্ত পান করতে দ্বিধা করে না, তারা আবার উড়াল দিয়ে এসে দেশে ফিরে চেপে বসবে আর জনগণ তা মেনে নেবে—এটা কোনো দিনই সম্ভব নয়।
রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) মিলনায়তনে ঐতিহাসিক ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
“বুলেট নেওয়া শহীদদের রক্ত কি মুছে ফেলা যাবে?”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, “এত মানুষের রক্ত ঝরিয়ে, তরতাজা তরুণদের ওপর নির্মম অত্যাচার চালিয়ে যিনি দেশ শাসন করেছেন, তিনি এখন বলছেন ডিসেম্বরে নাকি দেশে ফিরে আসবেন! কিন্তু এ দেশের মানুষের চোখের সামনে এখনও ভাসছে সেই তরতাজা শিশু-কিশোর ও তরুণদের মুখ, যারা স্বৈরাচারের বুলেট বুক পেতে গ্রহণ করেছিল। আবু সাঈদ, মুগ্ধ কিংবা ওয়াসিম আকরামের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে মহিমান্বিত বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে, তা কি এত সহজে মুছে ফেলা সম্ভব?”
শেখ হাসিনার ফেরা প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা ভাবছেন প্যারাসুট দিয়ে হুট করে নেমে আসবেন আর সবাই ঢোল বাজিয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাবে—এটি কি কখনও সম্ভব? বাংলার মাটি বীরের মাটি। যারা দেশের মানুষের রক্ত ঝরিয়ে পালিয়ে যায়, বীরের এই মাটিতে তাদের আর জায়গা হবে না।”
৭ নভেম্বরের সঙ্গে জুলাই বিপ্লবের ঐতিহাসিক মেলবন্ধন
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে গভীর যোগসূত্রের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও ৭ নভেম্বরের চেতনা অভিন্ন। এটি আধিপত্যবাদবিরোধী স্বাধীনতার চেতনা।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “৭ নভেম্বর বিদেশি প্রভাবমুক্ত স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ও অভ্যন্তরীণ নীতির সূচনা করেছিল। বাংলাদেশ কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে বা চুক্তি করবে, তা কারও অঙ্গুলিহেলনে নির্ধারিত হবে না। ১৮ কোটি মানুষের এই দেশকে বাইরে থেকে কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা সরকার এই ঐতিহাসিক দিনটিকে সরকারিভাবে পালন করতে না দিলেও মানুষের হৃদয় থেকে ৭ নভেম্বরের অন্তর্নিহিত শক্তি মুছে ফেলা যায়নি।
ছাত্রদলের ত্যাগ ও শহীদ জিয়ার অবদান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের দীর্ঘ সংগ্রামের স্মৃতি চারণ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, “ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বহুবার ক্যাম্পাসে ঢুকতে গিয়ে রক্ত পাঠিয়েছে, মার খেয়েছে, কিন্তু কখনো মাঠ ছেড়ে পালিয়ে যায়নি। তাদের এই ঝরে পড়া রক্তই সারা দেশের তরুন সমাজকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রেরণা জুগিয়েছে।”
অনুষ্ঠানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে রিজভী বলেন, “একটি দক্ষ, পেশাদার ও আধুনিক সেনাবাহিনী গড়ে তোলার পেছনে জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল, যা তিনি রাজনীতিমুক্ত রাখতে চেয়েছিলেন।” বর্তমান নাজুক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, “৭ নভেম্বর হলো আমাদের সেই দিক নির্দেশক কম্পাস, যা দূর্যোগ ও বিপদের দিনে দলকে সঠিক পথ দেখায়।”
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির-এর সঞ্চালনায় উক্ত আলোচনা সভায় ছাত্রদল ও বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এনএন/ ০৮ নভেম্বর ২০২৬







