ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন শুরু, একজন নিতে পারবেন সর্বোচ্চ ৫টির অনুমোদন

ঢাকা,০৩ নভেম্বর-রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) মঙ্গলবার থেকেই ই-রিকশার নিবন্ধনের আবেদন ফরম বিক্রি শুরু করছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনও (ডিএনসিসি) নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নিতে পারবেন। তবে শুধু আবেদন করলেই অনুমোদন পাওয়া যাবে না। রিকশার কারিগরি মান, নিরাপত্তা ও ফিটনেস যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে।
গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার বিভাগ ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ জারি করে।
ডিএসসিসির নগর ভবন ও সব আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে ১০০ টাকা দিয়ে আবেদন ফরম সংগ্রহ করা যাবে। অন্যদিকে, ডিএনসিসি ফরম ছাপানোর কাজ করছে। সংস্থাটি শিগগিরই ফরম বিক্রির তারিখ ঘোষণা করবে।
বিধিমালা অনুযায়ী, আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং তাঁর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নেওয়া যাবে। এই সীমা সব সিটি করপোরেশন মিলিয়ে প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ একাধিক সিটি করপোরেশনে আবেদন করলেও পাঁচটির বেশি রিকশার নিবন্ধন নেওয়া যাবে না। এক সিটিতে নিবন্ধিত রিকশা অন্য সিটিতে চলাচল করতে পারবে না।
নিবন্ধনের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, দুই কপি ছবি, ফি জমার রসিদ ও ফিটনেস সনদ জমা দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রিকশার কারিগরি মান ও নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই করবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত নকশা ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে। সব শর্ত পূরণ হলে আবেদন পাওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দেওয়ার বিধান রয়েছে।
পুরোনো রিকশা বাতিল করে নতুন রিকশা কেনার বাধ্যবাধকতা নেই। অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পরিবর্তন করে ফিটনেস সনদ নিলে পুরোনো রিকশাও নিবন্ধনের সুযোগ পাবে।
দুই যাত্রীর রিকশার নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা এবং চার যাত্রীর রিকশার ক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকা। বার্ষিক নবায়ন ফি যথাক্রমে ৪ হাজার ও ৫ হাজার টাকা। ফিটনেস সনদের জন্য দিতে হবে ১ হাজার টাকা। নিবন্ধনের মেয়াদ পাঁচ বছর এবং রিকশার আয়ুষ্কাল ১২ বছর। প্রতিটি নিবন্ধিত রিকশায় কিউআর কোডযুক্ত নম্বরপ্লেট থাকবে।
বিধিমালা অনুযায়ী, ঢাকাকে আটটি অঞ্চলে ভাগ করা হবে। প্রতিটি অঞ্চলের রিকশার রং হবে আলাদা। এক অঞ্চলের রিকশা অন্য অঞ্চলে চলাচল করতে পারবে না। ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার। তবে স্কুল, হাসপাতাল ও ব্যস্ত এলাকায় এই সীমা হবে ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার। এসব যান মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে ও নিষিদ্ধ সড়কে চলতে পারবে না।
চার্জিং স্টেশন পরিচালনার জন্যও নিবন্ধন নিতে হবে। পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র থাকতে হবে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অনুমোদন ছাড়া ব্যাটারি ব্যবহার এবং অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. এহসানের নেতৃত্বে একটি গবেষক দল ই-রিকশার নতুন নকশা তৈরি করেছে। এতে হাইড্রোলিক ডিস্ক ব্রেক, বিকল্প পার্কিং ব্রেক, পেছনের যান দেখার আয়না, সংকেতবাতি ও স্থায়ী হেডলাইটসহ ১৬টি নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য যুক্ত করা হয়েছে।
নতুন নকশা অনুযায়ী একটি রিকশা তৈরি করতে খরচ হবে প্রায় দেড় লাখ টাকা। এর সঙ্গে ব্যাটারির জন্য অতিরিক্ত ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। ফলে নিবন্ধন ও কারিগরি মান নিশ্চিত করতে রিকশার মালিকদের বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে।
নতুন বিধিমালার মাধ্যমে ব্যাটারিচালিত রিকশার বিশৃঙ্খল চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। তবে নিবন্ধনের পাশাপাশি সড়কে নিয়ম মানা এবং বিধিমালার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
এস এম/ ০৩ নভেম্বর ২০২৬







