জাতীয়

এনআইডি সংশোধনে নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা ইসির

এনআইডি

ঢাকা,০৩ নভেম্বর-জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের আবেদনে জালিয়াতি ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ জন্য এনআইডি সংশোধনের আবেদন করতে নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।

এই ব্যবস্থা চালু করতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে আলোচনা করছে ইসি।

ইসি সূত্র জানায়, বর্তমানে ফেস ভেরিফিকেশন বা মুখমণ্ডল শনাক্ত করার মাধ্যমে একজন নাগরিক এনআইডি সংশোধনের আবেদন করতে পারেন। তবে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে প্রতারক চক্র ব্যক্তির উপস্থিতি ছাড়াই তাঁর এনআইডি সংশোধনের আবেদন করছে।

ইসির নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, কারও নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর না থাকলে তিনি এনআইডি সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন না। এ জন্য অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেসের (এপিআই) মাধ্যমে মোবাইল নম্বর যাচাইয়ের ব্যবস্থা করতে বিটিআরসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

ইসি সূত্র আরও জানায়, বর্তমানে একটি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে সর্বোচ্চ আটটি এনআইডি সংশোধনের আবেদন করা যায়। নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর দিয়ে আবেদন করার নিয়ম চালু হলে যার এনআইডি, শুধু তাঁর নামে নিবন্ধিত নম্বর ব্যবহার করেই সংশোধনের আবেদন করা যাবে। অর্থাৎ একটি নম্বর দিয়ে শুধু একজনের এনআইডি সংশোধনের আবেদন করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া দেশের বাইরে থেকে এনআইডি সংশোধনের সেবা নিতে চান, এমন নাগরিকদের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেটিও ভাবছে ইসি।

এ বিষয়ে ইসির এনআইডি অনুবিভাগের সিস্টেম ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, বিটিআরসির সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। আলোচনা শেষ হলেই এনআইডি সংশোধনের আবেদনে নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহারের পদ্ধতি চালু করা হবে।

এদিকে এনআইডি নিবন্ধন ও সংশোধনের কাজ আরও দ্রুত করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে ইসি। এ জন্য বিটিআরসিসহ নয়টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানে এপিআই সংযোগ স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা চলছে।

ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করেছে কমিশন। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন শাখা এবং আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন নিবন্ধন অধিদপ্তরের বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন বিভাগ।

এস এম/ ০৩ নভেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language