আগামী সোমবার থেকে শুরু ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ: মসজিদ-মন্দিরে বিশেষ প্রচারণার নির্দেশ
ঢাকা, ১০ অক্টোবর – দেশের প্রতিটি প্রান্তের অভাবী ও প্রকৃত দরিদ্র পরিবারগুলোকে সরকারি সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে দেশব্যাপী শুরু হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি। আগামী ১২ অক্টোবর থেকে একযোগে শুরু হবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারগুলোর তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম। এই কর্মসূচি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন ও অবহিত করতে দেশের সব মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জায় বিশেষ প্রচারণার নির্দেশ দিয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রচারণার উদ্যোগ
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি থেকে সম্প্রতি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে একটি বিশেষ চিঠি পাঠানো হয়েছে।
সমন্বিত মাধ্যম: ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দেশের সব মসজিদ এবং হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জায় ফ্যামিলি কার্ড সম্পর্কিত সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
উদ্দেশ্য: ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর মাধ্যমে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া, যাতে কোনো পরিবার তথ্য দেওয়া থেকে বাদ না পড়ে।
তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়া ও নির্দেশিকা
শুরু কবে: আগামী ১২ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী একযোগে খানা বা পরিবারের তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে।
নির্দেশিকা: এই কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে ‘ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্যভান্ডারের তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা, ২০২৬’।
পদ্ধতি: সরকারের প্রশিক্ষিত কর্মীরা সরাসরি প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন করবেন। সংগৃহীত এসব তথ্যের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে কোন পরিবারের সরকারি সহায়তা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
প্রতারণা থেকে সাবধান ও গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:
সঠিক তথ্য প্রদান: পরিবারের প্রকৃত তথ্য দিতে হবে। তথ্য কম-বেশি বা লুকোচুরি করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, কারণ ভুল তথ্যের কারণে প্রকৃত অভাবী পরিবারের অধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে।
সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সেবা: ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কেউ যদি কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা উৎকোচের প্রতিশ্রুতি দেয়, তবে তা সম্পূর্ণ বিশ্বাস না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তথ্য সংগ্রহে কোনো ধরনের অর্থ লাগবে না।
প্রতারণায় করণীয়: এ ধরনের কোনো প্রতারণার ফাঁদে পড়লে বা অনিয়মের অভিযোগ জানাতে প্রয়োজনে সরকারি হেল্পলাইন ১০৯৮ নম্বরে কল করে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
এনএন/ ১০ অক্টোবর ২০২৬







