ইসলামী ক্রেডিট কার্ডে নতুন নির্দেশনা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

ঢাকা, ০৮ অক্টোবর-শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ক্রেডিট কার্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে নতুন করে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কার্ডের পণ্য ও চুক্তি থেকে শুরু করে লেনদেন, ফি-চার্জ এবং পরিচালনার পদ্ধতি—সব ক্ষেত্রেই ইসলামী শরিয়াহর নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রচলিত ক্রেডিট কার্ডের মতো সুদভিত্তিক কোনো ব্যবস্থা অনুসরণ করা যাবে না। এর পরিবর্তে ইসলামী ক্রেডিট কার্ড পরিচালনায় কর্জ (সুদমুক্ত ঋণ) এবং উজরাহ (সেবা মূল্য) নীতি অনুসরণ করতে হবে।
শরিয়াহসম্মত নয়—এমন কোনো পণ্য বা সেবার লেনদেনেও ইসলামী ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা যাবে না। বিশেষ করে মদ, জুয়া, তামাকসহ শরিয়াহ অনুযায়ী নিষিদ্ধ পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে এই কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ ছাড়া কার্ড পরিচালনার জন্য ব্যাংকগুলো গ্রাহকের মুদারাবা বা বিনিয়োগকারী গ্রাহকদের সঞ্চিত আমানতের অর্থ ব্যবহার করতে পারবে না।
নগদ টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নীতিমালা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ইসলামী ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে নগদ অর্থ উত্তোলনের সময় নির্দিষ্ট অঙ্কের ফি নেওয়া যাবে। তবে উত্তোলন করা অর্থের ওপর শতাংশের ভিত্তিতে কোনো ফি বা চার্জ আরোপ করা যাবে না।
কার্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো ফি বা চার্জ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে গ্রাহককে অন্তত ৩০ দিন আগে জানাতে হবে। এর মাধ্যমে গ্রাহককে আগাম তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি চার্জ পরিবর্তনের বিষয়েও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, ইসলামী ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে পণ্য কেনাকাটা, নগদ অর্থ উত্তোলন কিংবা ইউটিলিটি বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে যে অর্থ দেওয়া হবে, তা হাসানা বা সুদমুক্ত ঋণ হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলে এ ধরনের ঋণের বিপরীতে গ্রাহকের কাছ থেকে ঋণের অতিরিক্ত কোনো অর্থ বা সুবিধা নেওয়া যাবে না।
এস এম/ ০৮ অক্টোবর ২০২৬







