দাবি করলেই বকেয়া দেনমোহর স্ত্রীকে পরিশোধ করতে হবে: হাইকোর্ট

ঢাকা, ০৭ অক্টোবর-বিয়ের সময় বকে্পত্তিতে বিচারপতি আব্দুর রহমানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এই পর্যবেক্ষণ ও রায় দেন। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়ের পূর্ণাঙ্গযথা গড়িমসি বা কালক্ষেপণ করলে এবং স্ত্রীকে দেনমোহর আদায়ের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য করলে সংশয়া রাখা দেনমোহর স্ত্রী দাবি করা মাত্রই স্বামীকে তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করতে হবে বলে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই দেনমোহর পাওয়ার জন্য স্ত্রীকে বিবাহবিচ্ছেদ কিংবা স্বামীর মৃত্যুর মতো ঘটনার জন্য আর অপেক্ষা করতে হবে না।
দেনমোহর সংক্রান্ত একটি দেওয়ানি রিভিশন মামলার নিষ্পত্তিতে বিচারপতি আব্দুর রহমানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এই পর্যবেক্ষণ ও রায় দেন। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।
পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোনো স্বামী দেনমোহর পরিশোধে অযথা গড়িমসি বা কালক্ষেপণ করলে এবং স্ত্রীকে দেনমোহর আদায়ের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য করলে সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত স্বামীকে মূল দেনমোহরের পাশাপাশি স্ত্রীকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে।
হাইকোর্ট তার পর্যবেক্ষণে আরও স্পষ্ট করেন, দেওয়ানি চুক্তি বা আইনের সুস্পষ্ট ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোনো অবস্থাতেই দেনমোহরের কোনো অংশ কমানো, হ্রাস করা বা মওকুফ করার আইনি এখতিয়ার কোনো আদালতের নেই।
উল্লেখ্য, বিদ্যমান মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালায় বকেয়া দেনমোহরের বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও তা ঠিক কবে বা কখন পরিশোধ করতে হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো আইনি ব্যাখ্যা ছিল না। ফলে সমাজে একটি ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত হয়েছিল যে বিবাহবিচ্ছেদ কিংবা স্বামীর মৃত্যুর পরই কেবল বকেয়া দেনমোহর দাবি করা যায়। হাইকোর্টের এই আদেশের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সেই আইনি অস্পষ্টতা ও জটিলতার অবসান ঘটল।
রায়ে পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন সুরার প্রাসঙ্গিক আয়াতের উল্লেখ করে আদালত বলেন, ইসলামে দেনমোহর ফেলে রাখা বা বকেয়া রাখার কোনো সুযোগ নেই; বরং এটি স্ত্রীর তাৎক্ষণিক ও অবিচ্ছেদ্য প্রাপ্য অধিকার।
এই রায়কে দেশের আইনি অঙ্গন ও নারীর অধিকার সুরক্ষায় একটি অনন্য মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন মামলার আইনজীবী ব্যারিস্টার ইশরাত হাসান। তিনি বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে বকেয়া দেনমোহর আদায়ের ক্ষেত্রে নারীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার পথ বন্ধ হলো। এখন আর আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোনো স্বামী দেনমোহর পরিশোধ নিয়ে টালবাহানা করতে পারবেন না। নারীর সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই রায় দেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি বড় নজির হয়ে থাকবে।
এস এম/ ০৭ অক্টোবর ২০২৬







