ইরানে কে ক্ষমতায় তা কেউ জানে না: ট্রাম্প, পাল্টা জবাব তেহরানের

ওয়াশিংটন, ০৭ অক্টোবর-আমেরিকা-ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের অষ্টম মাসে এসে ট্রাম্প প্রশাসন ও তেহরানের মধ্যে বাকযুদ্ধ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর দেশটি এখন কারা পরিচালনা করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন, বর্তমানে ইরানে কোনো পরিষ্কার নেতৃত্ব নেই এবং দেশটি কে চালাচ্ছে, সে বিষয়ে কারও কোনো ধারণা নেই।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, তেহরানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করে এবং ইরানের দায়িত্বে কারা রয়েছেন, তা ওয়াশিংটন খুব ভালোভাবেই জানে।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের শীর্ষ সারির নেতাদের প্রায় সবাইকে নির্মূল করা হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, তাদের প্রথম সারির নেতারা চলে গেছেন, এমনকি দ্বিতীয় সারির নেতৃত্বের দলও শেষ হয়ে গেছে। এখন তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, কেউ জানে না ইরান আসলে কে চালাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যে বোঝা যায়, দীর্ঘ আট মাসের যুদ্ধের পরও ওয়াশিংটন তেহরানের প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দাবির সরাসরি বিরোধিতা করে রবিবার সংবাদ সম্মেলনে জবাব দেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি বলেন, ইরানে তাদের প্রতিপক্ষ কারা এবং দেশটির সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থা কীভাবে পরিচালিত হয়, তা ওয়াশিংটন খুব ভালো করেই জানে। বাঘাইয়ের দাবি, সমস্যাটি আসলে ইরানের নেতৃত্বের অভাব নয়, বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই রয়েছে। আমেরিকান কর্মকর্তাদের পরস্পরবিরোধী অবস্থান এবং তাদের মিশ্র বা দ্ব্যর্থবোধক বার্তাই এই বিভ্রান্তির মূল কারণ বলে অভিযোগ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের প্রথম দিনেই এক সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি স্থলাভিষিক্ত হলেও তিনি নিজে প্রকাশ্যে কোনো ভূমিকা রাখছেন না। খামেনিকে হত্যার একই হামলায় মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন এবং এরপর থেকে তাঁকে আর জনসমক্ষে বা কোনো প্রকাশ্য কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতি এবং দ্বিতীয় সারির একাধিক কমান্ডার নিহত হওয়ায় যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা বিশ্ব রাজনীতিতে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
এস এম/ ০৭ অক্টোবর ২০২৬







