মোংলায় ১০০ মেগাওয়াটের এসএমআর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব চীনের

বাগেরহাট, ০৫ অক্টোবর-মোংলায় পরিকল্পিত চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাছে ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ছোট মডুলার রিঅ্যাক্টর (এসএমআর) পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে চীন। প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশে এটিই হবে প্রথম এসএমআর প্রকল্প।
প্রস্তাবিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে মূলত মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বাংলাদেশের কাছে বিক্রির পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার বাইরে দেশের পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগের মধ্যেই এই প্রস্তাব এসেছে। রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচির অন্যতম প্রধান প্রকল্প।
এদিকে শান্তিপূর্ণভাবে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহারের বিষয়ে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। এর পরপরই নতুন এই প্রস্তাব সামনে এলো।
প্রচলিত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় চীনের প্রস্তাবিত এসএমআর প্রযুক্তি আকারে ছোট, বেশি নমনীয় এবং তুলনামূলকভাবে সহজে স্থাপন করা যায়। চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশ বর্তমানে এই প্রযুক্তির উন্নয়নে কাজ করছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বাংলাদেশ এসএমআর প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের এসএমআর সম্পর্কে আরও জানতে হবে। আমরা এতে আগ্রহী। তবে এ বিষয়ে আরও ভালোভাবে বোঝার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ তবে মন্ত্রী জানান, মোংলায় এসএমআর নির্মাণের জন্য চীনের নির্দিষ্ট প্রস্তাবটি এখনো তাঁর কাছে পৌঁছায়নি।
আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) এবং চীনের একটি প্রতিনিধি দলের বৈঠকে প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার কোঅপারেশন ওভারসিজ লিমিটেডের আটজন করে প্রতিনিধি অংশ নেন।
চীনের চারজন বিশেষজ্ঞ বৈঠকে এসএমআর প্রযুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে উপস্থাপনা করেন এবং প্রস্তাবিত প্রকল্পের বিষয়ে বাংলাদেশের মতামত জানতে চান।
বৈঠকে অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক আলোচনায় প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশকে বিনামূল্যে জমি দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক মওকুফের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করতে পারে বলে জানানো হয়।
এসএমআর প্রযুক্তিতে দেশের নিজস্ব দক্ষতা ও জনবল গড়ে তুলতে প্রকল্পটিতে স্থানীয় কর্মীদের নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া প্রস্তাবিত প্রকল্পের অংশ হিসেবে চীনকে মোংলা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
এস এম/ ০৫ অক্টোবর ২০২৬







