চট্টগ্রামসহ ৫ জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, পাহাড়ধসের জরুরি সতর্কবার্তা

ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর – মিয়ানমার ও সংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি শক্তিশালী স্থল নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। টানা এই বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ ভূমিধস এবং নিম্নাঞ্চলে মারাত্মক জলাবদ্ধতার চরম ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
সংস্থাটি সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি বহাল রেখেছে।
স্থল নিম্নচাপের গতিপথ ও সাগরে উত্তাল পরিস্থিতি
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে:
- অবস্থান: নিম্নচাপটি উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় মিয়ানমার ও তৎসংলগ্ন উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছিল।
- গতিপথ: এটি আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে।
- সাগরের অবস্থা: নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
বন্দরসমূহে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত ও জেলেদের নির্দেশনা
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সাবধানে চলাচল করতে নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পাহাড়ে মৃত্যুর ঝুঁকি: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য এলাকায় সতর্কতা জারি
টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ের মাটি আলগা হয়ে ভূমিধসের ঘটনাই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের পাহাড়ি ঢালে বসবাসকারী বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং ও জরুরি প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে উদ্ধারকারী দলসমূহকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এনএন/ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬







