২৪ ঘণ্টায় কেড়ে নিল আরও ৫ শিশুর প্রাণ, হামের আশঙ্কাজনক প্রসারে দেশজুড়ে উদ্বেগ

ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর – দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া হামের উপদ্রব দিন দিন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সংক্রামক এই ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৫ শিশুর নির্মম মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন এক হাজারের বেশি রোগী।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে দেশের এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের মধ্যে এই সংক্রমণ অতীতের যেকোনো রেকর্ড ছাপিয়ে যাওয়ার পথে।
পরিসংখ্যানের উদ্বেগজনক চিত্র
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে শনাক্ত হয়েছেন ১,২৫৫ জন, যার মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম ধরা পড়েছে ৮৪ জনের শরীরে। এছাড়া সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মিলিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৩৩৯ জনে।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সামগ্রিক পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে পরিস্থিতি কতটা মারাত্মক তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে:
মোট রোগী শনাক্ত: এ পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১ লাখ ৯০ হাজার ৫১৯ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে শনাক্ত হয়েছেন।
নিশ্চিত হামের শিকার: ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে মোট ২১ হাজার ৩৯২ জন নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।
হাসপাতাল ভর্তি ও সুস্থতা: গত ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৫৫ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, যার মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৯৮ জন।
মৃত্যুর মহামারী ও শিশুদের নিয়ে ঝুঁকি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ নাগাদ হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ১ হাজার ৩ জন। এর মধ্যে সরাসরি ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হওয়া হামেই মারা গেছে ১০১ জন শিশু।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো টিকা না পাওয়া বা টিকাদানের হার কম থাকা অঞ্চলগুলোতেই এ ভাইরাসের প্রকোপ বেশি দেখা দিচ্ছে। পুষ্টিহীনতায় ভোগা শিশুদের শরীরে হামের জটিলতা দ্রুত মারাত্মক আকার ধারণ করে, যার ফলে নিউমোনিয়া বা মারাত্মক জ্বর হয়ে প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটছে।
এমন প্রেক্ষাপটে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের দ্রুত টিকাদানের আওতায় আনা এবং যেকোনো ধরনের উপসর্গ (যেমন: উচ্চ জ্বর, চোখ লাল হওয়া, সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি) দেখা দিলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
এনএন/ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬







