‘থানার ইট খুলে নেব!’ ফতুল্লায় এনসিপি নেতার হুঙ্কার, তুমুল হট্টগোল ও উত্তেজনা!

নারায়ণগঞ্জ, ২৯ সেপ্টেম্বর – নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানার ভেতরেই তৈরি হলো নজিরবিহীন ও উত্তপ্ত পরিবেশ। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার ওপর হামলার ঘটনার পর ফতুল্লা থানায় গিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলের জেলা কমিটির আহ্বায়ক যুবাইর সরদার। পুলিশের সামনেই তিনি স্পষ্ট হুমকি দিয়ে বলেন, পরবর্তীতে তাদের কোনো কর্মীর ওপর হামলা হলে ‘থানার ইট খুলে নেওয়া হবে’।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনার একটি ১৭ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে, যা নিয়ে জেলাজুড়ে চলছে তীব্র সমালোচনা ও তোলপাড়।
কেন এই উত্তাপ? নেপথ্যে মাটি কাটা ও হামলার অভিযোগ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার রাত আটটার দিকে ফতুল্লা থানার বক্তাবলী বাজার এলাকায় হামলার শিকার হন এনসিপির জেলা কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম।
এনসিপি নেতাদের দাবি, ধলেশ্বরী নদীর তীরে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদের নির্দেশে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাওহীদুলের ওপর চড়াও হন এবং তাঁকে মারধর করেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এনসিপি ও এর অঙ্গসংগঠন ‘জাতীয় যুবশক্তি’র শতাধিক নেতাকর্মী ফতুল্লা মডেল থানায় গিয়ে অবস্থান নেন। তাঁরা থানার সামনে মিছিল বের করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে রাতে স্থানীয় সংসদ সদস্য (নারায়ণগঞ্জ-৪) আব্দুল্লাহ আল আমিনও পরিস্থিতি দেখতে থানায় উপস্থিত হন।
‘লাশের বদলে লাশ নেব!’ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল ভিডিও
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষের ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে এনসিপির জেলা আহ্বায়ক যুবাইর সরদারকে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে উত্তেজিত কণ্ঠে বলতে শোনা যায়:
“আমি যুবাইর সরদার, নারায়ণগঞ্জ এনসিপির আহ্বায়ক। যদি আমার একটা কোনো কর্মীর গায়ে হাত তোলে, লাশের বদলে লাশ নেব। আমার একজন নেতাকর্মীর গায়ের রক্ত পড়ে আরেকবার, থানার ইটকল পর্যন্ত খুলে নেব।”
পুলিশ প্রশাসন ও আইনি পদক্ষেপ
থানার ভেতরে এ ধরনের প্রকাশ্য হুমকিমূলক বক্তব্যের বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম জানান, তিনি তখন নিজের কক্ষে অবস্থান করছিলেন। তবে ওসি স্পষ্ট করেন, “দায়িত্বশীল পদে থেকে এভাবে থানার ভেতর বক্তব্য দেওয়া মোটেও ভালো চর্চা নয়। এমন বক্তব্যের ফলে যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে কোনো বিঘ্ন ঘটে, তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”
এদিকে ঘটনার প্রেক্ষিতে জাতীয় যুবশক্তির জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হাসান বাদী হয়ে হালিম আজাদসহ বিএনপির ১৬ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন। তবে মামলা দায়েরের পর এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
এনএন/ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬







