পরিবারে সচ্ছলতা ফেরাতে গিয়ে প্রবাসেই শেষ নিশ্বাস: জেদ্দা-মদিনা সড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় লোহাগাড়ার প্রবাসীর করুণ মৃত্যু

রিয়াদ, ২৮ সেপ্টেম্বর – পরিবারের মুখে একটু হাসি ফোটাতে ও জীবনের সচ্ছলতা আনতে দূর পরবাসে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে স্বপ্নগুলো ধুলোয় মিশে গেল একটি ঘাতক গাড়ির ধাক্কায়। সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে মদিনা যাওয়ার পথে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার সন্তান মোহাম্মদ শওকত হোসেন (৪৪)।
ঘটনাটি ঘটে গত রোববার স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ২টার দিকে সৌদি আরবের ব্যস্ততম মদিনা রোডে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে এ খবর দেশে পৌঁছালে এলাকায় শোকের মাতম শুরু হয়।
কীভাবে ঘটল এই করুণ দুর্ঘটনা?
নিহতের পারিবারিক সূত্র ও স্বজনদের থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায় দুর্ঘটনার বিবরণ:
নিহতের পরিচয়: লোহাগাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের রশিদের পাড়া এলাকার বাসিন্দা আবদুল মতলবের ছেলে মোহাম্মদ শওকত হোসেন।
দুর্ঘটনার ধরন: রোববার গভীর রাতে জেদ্দা থেকে গাড়ি চালিয়ে মদিনার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন শওকত। পথিমধ্যে মদিনা রোডে বিপরীত বা পেছন দিক থেকে আসা আরেকটি বেপরোয়া গতির গাড়ি তার গাড়িটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
ঘটনাস্থলেই মৃত্যু: গাড়ি দুটির প্রচণ্ড সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান শওকত হোসেন।
পরিবারে খবর: সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রবাসে থাকা এক আত্মীয়ের মাধ্যমে মৃত্যুর সংবাদ জানতে পারে তার পরিবার।
“বাবা পরিবারের সুখের কথা ভেবে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। জেদ্দা থেকে মদিনা যাওয়ার পথে অন্য একটি গাড়ি বাবার গাড়িকে সজোরে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই সব শেষ হয়ে যায়।”— মোহাম্মদ সানিম (নিহতের সন্তান)
রশিদের পাড়ায় শোকের মাতম ও আহাজারি
শওকত হোসেনের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে লোহাগাড়ার রশিদের পাড়া এলাকায় নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। সন্তান, স্ত্রী ও স্বজনদের হৃদয়বিদারক কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে আশপাশের পরিবেশ। উপার্জনের একমাত্র অবলম্বনকে হারিয়ে দিশেহারা পুরো পরিবার।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহ আলম লিটন শোক প্রকাশ করে জানান, পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতেই তিনি প্রবাসজীবন বেছে নিয়েছিলেন। তার এই অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করতে তিনি সৌদি দূতাবাস ও বাংলাদেশ সরকারের জরুরি সহযোগিতা কামনা করেছেন।
প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় উদ্বেগ
প্রবাসে বাংলাদেশি শ্রমিক ও চালকদের সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর পরই তোলপাড় শুরু হয়েছে। নেটিজেনরা নিহত শওকত হোসেনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করার পাশাপাশি প্রবাসীদের মরদেহ দ্রুত ও বিন খরচে দেশে আনার স্থায়ী ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছেন।
এনএন/ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬







