সৌদি আরব

সৌদি আরবে বাংলাদেশি যুবককে গুলি করে হত্যা, পরে হামলাকারীর আত্মহত্যা

রিয়াদ, ৩০ আগস্ট – সৌদি আরবের তায়েফ শহরে এক স্থানীয় তরুণের গুলিতে কামরুল হোসেন নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। হামলার পর অভিযুক্ত সৌদি নাগরিক নিজেও নিজের মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সময় রোববার ভোরে তায়েফ শহরের হাওয়ায়েয়া এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত কামরুল হোসেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী বাড়ির খুরশিদ আলমের ছেলে। প্রায় দুই বছর আগে জীবিকার প্রয়োজনে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন। কামরুলের স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। তার ভগ্নিপতি রনি এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতের ছোট ভাই মহন মির্জা জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে কামরুল তার স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন। সে সময় তাদের পরিবারের এক সদস্যের বিয়ের আয়োজন নিয়ে আলোচনা চলছিল। কথা বলার মাঝেই হঠাৎ কামরুলের চিৎকার শোনা যায়। এরপর বারবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে সৌদি আরবে অবস্থানরত স্বজন ও প্রবাসীদের মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর জানা যায়।

নিহত কামরুলের বাবা খুরশিদ আলম জানান, দুই বছর আগে সৌদি আরবের মদিনায় একটি সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে তার আরেক ছেলেও মারা গিয়েছিলেন। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই কামরুলের মৃত্যুর সংবাদে পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

কামরুলের মা জাহানারা বেগম ছেলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে আকুতি জানিয়েছেন।

বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কায়েসুর রহমান জানান, প্রবাসী কামরুল হোসেনের মৃত্যুর বিষয়টি প্রশাসন অবহিত হয়েছে। নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

বর্তমানে সৌদি আরবের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাটির তদন্ত পরিচালনা করছে।

এনএন/ ৩০ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language