ব্রিকস নৈশভোজে শুধু নিরামিষ খাবার, মেনু নিয়ে রাহুল গান্ধীর প্রশ্ন

দিল্লি,১৪ সেপ্টেম্বর- ব্রিকস সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল জমকালো নৈশভোজ। টেবিলে সাজানো ছিল একের পর এক ভারতীয় খাবার। তবে মেনুতে ছিল না মাংস, মুরগি বা মাছ। পুরো নৈশভোজের আয়োজনই ছিল নিরামিষ। আর এই খাবারের তালিকা ঘিরেই ভারতে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক।
শনিবার সন্ধ্যার নৈশভোজে ১০টির বেশি পদ পরিবেশন করা হয়। শুরুতে ছিল ‘খুম্ব গালৌটি’, পনির ও মাশরুমের বিভিন্ন পদ, বাজরার পোলাও, বিটের রায়তা এবং নানা ধরনের ভারতীয় রুটি। মিষ্টান্ন হিসেবে ছিল পুরোনো দিল্লির ফলের ক্রিম ও জিলাপি এবং শাহদুত ফিরনি।
ব্রিকসের নৈশভোজের এই মেনু নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘রেকর্ড হিসেবে বলে রাখি, ভারতের ৮০ শতাংশ মানুষ আমিষভোজী। ভারতীয় আমিষ খাবার অত্যন্ত সুস্বাদু। ঠিক যেমনটি আমার বোনের তৈরি ছোলে ভাটুরে।’
রাহুল গান্ধীর এই বক্তব্যের পর বিষয়টি আরও রাজনৈতিক রূপ নেয়। কংগ্রেস নেতা পবন খেরা অভিযোগ করেন, বিজেপি আগে থেকেই নিজেদের খাদ্যাভ্যাস মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে আসছে। এবার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অতিথিদের ওপরও সেই পছন্দ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ওয়ারিস পাঠানও বলেন, ভারতের বৈচিত্র্য শুধু ভাষা ও সংস্কৃতিতে নয়, খাবারের ক্ষেত্রেও রয়েছে। তাঁর মতে, মাটন মসালা ফ্রাই, হায়দরাবাদি বিরিয়ানি, তন্দুরি মুরগি, বাটার চিকেন ও গোয়ান মাছের ঝোলের মতো খাবারও বিশ্বনেতাদের সামনে পরিবেশন করা যেত।
জবাবে বিজেপি অভিযোগ করে, সম্মেলনের অর্জন ও গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পেরে কংগ্রেস খাবারের মেনু নিয়ে রাজনীতি করছে। বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি বলেন, সমালোচনা করার মতো যদি বিরোধীদের কাছে খাবারের তালিকা ছাড়া আর কিছু না থাকে, তাহলে সেটিই ব্রিকস সম্মেলনের সাফল্যের প্রমাণ।
বিজেপির আরেক মুখপাত্র তুহিন সিনহা রাহুল গান্ধীর মন্তব্যকে ‘তুচ্ছ ও অবান্তর’ বলে সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, এমন মন্তব্য কংগ্রেসের মানসিকতারই প্রতিফলন।
এদিকে জানানো হয়েছে, নৈশভোজের মেনুতে ছিল খান্ডভি মিল্লে, খুম্ব গালৌটি, পনির লাবাবদার, গুচ্ছি মারমিক, গাজর বিন পোরিয়াল, বাজরার পোলাও, বিটের রায়তা, ভারতীয় রুটি, জিলাপি ও শাহদুত ফিরনি। ফলে খাবারের বৈচিত্র্য নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে আমিষ ও নিরামিষ খাবারের প্রসঙ্গ নতুন করে সামনে এসেছে।
এস এম/ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬







