এশিয়া

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্রিকসকে ভূমিকা রাখার আহ্বান শি জিনপিংয়ের

শি জিনপিং

বেইজিং,১৩ সেপ্টেম্বর- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বন্ধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্রিকস জোটকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

শনিবার ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। শি বলেন, চলমান যুদ্ধ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিন্ন স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সম্মেলনে শি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি ক্রমেই বদলাচ্ছে। সেখানে চলমান যুদ্ধ পুরো অঞ্চলের মানুষের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি বয়ে এনেছে এবং এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিন্ন স্বার্থের পরিপন্থী।”

চীনের প্রেসিডেন্ট ব্রিকসের দেশগুলোকে “ইতিহাসের সঠিক পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর” আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বেইজিং অন্য সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় যথাযথ ভূমিকা রাখতে কাজ করবে।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সভ্যতার মধ্যে পারস্পরিক শিক্ষা এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা উন্নয়নে ব্রিকসকে নেতৃত্ব দিতে হবে।

শি ব্রিকস সহযোগিতা কাঠামোকে “উদীয়মান অর্থনীতি ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী সহযোগিতা প্ল্যাটফর্ম” হিসেবে উল্লেখ করেন।

“শীতল যুদ্ধের মানসিকতা ও ব্লকভিত্তিক সংঘাতের” বিরোধিতা করে তিনি বলেন, অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধেও ব্রিকসকে অবস্থান নিতে হবে।

সব ধরনের সংরক্ষণবাদ প্রত্যাখ্যান করে শি জিনপিং সাইবারস্পেস, মহাকাশ ও গভীর সমুদ্রসহ বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় ব্রিকসকে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর কণ্ঠস্বর আরও জোরালো করার কথাও বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা উন্নয়নে ব্রিকসকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে, জাতিসংঘের কর্তৃত্ব ধরে রাখতে হবে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে সহযোগিতা আরও বাড়াতে হবে।

ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে ২০০৯ সালে ব্রিকস গঠিত হয়। পরে এতে মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যোগ দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের প্রভাবাধীন বিশ্বব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাতেই জোটটি গড়ে তোলা হয়েছিল।

ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর জনসংখ্যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি। বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশও তাদের দখলে।

এস এম/ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language