মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে ট্রাম্পের তিন মহাপরিকল্পনা: নেপথ্যে ইরানের প্রভাব কমানোর লক্ষ্য

ওয়াশিংটন, ৭ সেপ্টেম্বর – ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে তিনটি বড় পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে ওই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের কৌশলগত অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মূলত ইরানের প্রভাব মোকাবিলায় একটি নতুন আঞ্চলিক জোট গঠন এবং ইসরায়েলের সাথে প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্ক সুদৃঢ় করাই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয় যে এই পরিকল্পনাগুলো এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে নেই। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প তার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের সাথে অন্তত দুই দফা বৈঠকে এই বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে এই কৌশলটি ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরে মধ্যপ্রাচ্য নীতির মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
আলোচনায় উঠে আসা সম্ভাব্য কৌশলটির তিনটি প্রধান দিক রয়েছে। প্রথমত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে জামিনদার হিসেবে রেখে ইরানকে প্রতিহত করতে মিত্র দেশগুলোর মধ্যে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক জোট গড়ে তোলা হবে। দ্বিতীয়ত গাজা পরিকল্পনার পরবর্তী পর্যায় সুরক্ষিত করা এবং ইসরায়েলের সাথে সিরিয়া ও লেবাননের নিরাপত্তা চুক্তি বাস্তবায়ন করা হবে।
তৃতীয়ত ২০২০ সালে স্বাক্ষরিত আব্রাহাম চুক্তির পরিধি বৃদ্ধি এবং সৌদি আরবের সাথে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়টিও এই পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত। সূত্র অনুযায়ী ট্রাম্প প্রশাসন আশা করছে যে ইসরায়েলের নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকার এই কৌশল বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে।
তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন ট্রাম্প এই পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। বর্তমানে কৌশলটির খসড়া তৈরির কাজ চলছে এবং এটি চূড়ান্ত হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে জানা গেছে।
এস এম/ ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
FAQ
ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য কী?
মূল লক্ষ্য হলো ইরানের প্রভাব মোকাবিলায় আঞ্চলিক সমন্বয় বাড়ানো এবং ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা।
ট্রাম্পের পরিকল্পনায় কয়টি প্রধান দিক রয়েছে?
প্রাথমিকভাবে তিনটি দিক উঠে এসেছে—ইরানকে মোকাবিলায় আঞ্চলিক জোট, গাজা-সিরিয়া-লেবানন ঘিরে নিরাপত্তা উদ্যোগ এবং আব্রাহাম চুক্তির সম্প্রসারণ ও সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ।
সৌদি আরব ও ইসরায়েলের সম্পর্ক কি স্বাভাবিক হতে পারে?
এটি ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। তবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রশ্নসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক বাধা রয়েছে।
ট্রাম্পের পরিকল্পনা কি চূড়ান্ত হয়েছে?
না। পরিকল্পনাটি এখনও প্রাথমিক খসড়া পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত হতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
ইসরায়েলের নির্বাচন কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ট্রাম্প প্রশাসন আশা করছে, ইসরায়েলের নির্বাচনের পর গঠিত সরকার ওয়াশিংটনের বৃহত্তর আঞ্চলিক কৌশলের সঙ্গে কাজ করবে।







