জাতীয়

বাংলাদেশ-জার্মানি সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে আজ ঢাকায় আসছেন জার্মান ভাইস মিনিস্টার

ঢাকা, ২৫ অক্টোবর – বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যকার দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগিতাকে এক নতুন রূপ দিতে এবং দুই দেশের সরকারের উচ্চপর্যায়ের আলোচনার লক্ষ্যে আজ তিন দিনের সরকারি সফরে ঢাকা পৌঁছাচ্ছেন জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রণালয়ের (বিএমজেড) ভাইস মিনিস্টার ড. বারবেল কফলার। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জার্মান দূতাবাস থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক এক ঐতিহাসিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি (LDC) থেকে চূড়ান্ত উত্তরণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই অবস্থাকে সামনে রেখেই দুই দেশের মধ্যকার এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দীর্ঘমেয়াদি সহনশীলতা, অর্থনৈতিক অভিযোজন ক্ষমতা এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোতে বিশেষ জোর দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

প্রথাগত সহায়তার বাইরে নতুন সম্পর্কের ক্ষেত্র

জার্মানি বাংলাদেশের অন্যতম দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত উন্নয়ন অংশীদার। এই সফরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় যৌথ অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করতে চায় বার্লিন।

জার্মান দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হয়ে আসার পথে রয়েছে এবং এর ফলে দেশের পরিবর্তনশীল উন্নয়ন চাহিদাও পরিবর্তিত হচ্ছে। এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখে এবারের আলোচনা প্রথাগত সহায়তা কাঠামোর গণ্ডি পেরিয়ে নতুন ও সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলোতে আলোকপাত করবে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের অংশীদারিত্বকে আরও বেগবান করবে।

ব্যস্ত তিন দিনের সফরসূচি

ঢাকা পৌঁছানোর পর ড. কফলারের অত্যন্ত ব্যস্ত ও সুনির্দিষ্ট কিছু কর্মসূচি রয়েছে:

উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন: রাজধানী ছাড়াও তিনি বন্দরনগরী চট্টগ্রামে জার্মানির অর্থায়নে ও সহযোগিতায় পরিচালিত বিভিন্ন চলমান উন্নয়নমূলক প্রকল্প সরেজমিন পরিদর্শন করবেন।

রাজনৈতিক সংলাপ: বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ সরকারি নীতিনির্ধারক ও অংশীজনদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক সংলাপে অংশ নেবেন তিনি।

জার্মান রিইউনিফিকেশন ডে উদযাপন: ঢাকায় অবস্থানকালে তিনি জার্মান দূতাবাসে আয়োজিত ঐতিহাসিক ‘জার্মান রিইউনিফিকেশন ডে’-এর বিশেষ উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন।

উল্লেখ্য, স্নায়যুদ্ধকালীন বহু দশকের বিভাজন পেরিয়ে ১৯৯০ সালে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির ঐতিহাসিক একত্রীকরণকে স্মরণ করে এই দিবসটি উদযাপন করা হয়। এবারের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও জার্মানির জ্যেষ্ঠ সরকারি নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক কোরের সদস্য এবং সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এলডিসি উত্তরণের এই সন্ধিক্ষণে ড. বারবেল কফলারের এই সফর বাংলাদেশের টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে জার্মানির অব্যাহত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গীকারেরই জোরালো বহিঃপ্রকাশ।

এনএন/ ২৫ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language