ইরান যুদ্ধ সংক্রান্ত তথ্য ফাঁস: মার্কিন কর্মকর্তাদের পলিগ্রাফ পরীক্ষা

ওয়াশিংটন, ৬ সেপ্টেম্বর – ইরান যুদ্ধ সংক্রান্ত স্পর্শকাতর ও গোপন সামরিক তথ্য সংবাদমাধ্যমে ফাঁসের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই তদন্তের অংশ হিসেবে দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের পলিগ্রাফ বা লাই ডিটেক্টর পরীক্ষা করা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ এবং দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
গত আগস্ট মাসে মার্কিন জয়েন্ট স্টাফের কয়েক ডজন কর্মকর্তা এবং কর্মচারীকে এই বিশেষ পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। তাদের মধ্যে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড এবং অন্যান্য কমব্যাট্যান্ট কমান্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ও সীমিত মজুতের যুদ্ধাস্ত্র, বিশেষ করে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ব্যবহারের দ্রুততার বিষয়ে তথ্য কীভাবে বাইরে এল, তা জানতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, এই তথ্যগুলো কেবল গণমাধ্যমেই ফাঁস হয়নি, এর পেছনে কোনো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হাত থাকতে পারে। সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, পলিগ্রাফ পরীক্ষায় জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রশ্ন করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কেউই এই তথ্য ফাঁসের ঘটনায় সরাসরি অভিযুক্ত হননি।
পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল জানিয়েছেন যে, বিভাগটি অভ্যন্তরীণ কর্মী বা তদন্তের বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও জাতীয় নিরাপত্তার তথ্য ফাঁসের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখে। তবে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনসহ সব জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা এই পরীক্ষার আওতায় ছিলেন না।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর প্রেক্ষিতে গত জুলাই মাসে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করেন। এই টাস্কফোর্সের মূল লক্ষ্য ছিল স্পর্শকাতর সরকারি তথ্য ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার খবর নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এসব প্রতিবেদনকে দেশদ্রোহী আখ্যা দিয়ে দাবি করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বর্তমানে পর্যাপ্ত গোলাবারুদ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ অস্ত্র মজুত করছে এবং বর্তমানে তাদের গোলাবারুদ উৎপাদন অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
এস এম/ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬







