উত্তর আমেরিকা

ইরানের সঙ্গে সংঘাতকে তুচ্ছ বিষয় বলে অভিহিত করলেন ট্রাম্প

ট্রাম্প

ওয়াশিংটন, ৬ সেপ্টেম্বর – ইরানের সঙ্গে গত ছয় মাস ধরে চলমান সামরিক সংঘাতকে অত্যন্ত তুচ্ছ বিষয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সংঘাতে ১৮ জন মার্কিন সেনার প্রাণহানি এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও ট্রাম্প একে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ হিসেবে মেনে নিতে নারাজ।

গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান যে অনেকে একে যুদ্ধ বললেও তিনি একে কেবল একটি সাধারণ সামরিক সংঘাত হিসেবেই দেখেন কারণ এটি তাদের জন্য তেমন কোনো বড় ঘটনা নয়। এর এক দিন আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও একই ধরনের অভিমত ব্যক্ত করেছিলেন।

তিনি দাবি করেন যে ইরানের বিরুদ্ধে প্রধান সামরিক অভিযানগুলো বেশ কয়েক মাস আগেই সম্পন্ন হয়েছে। ভ্যান্সের সেই বক্তব্যের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে ট্রাম্প বলেন যে মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমান সংঘাত আর আগের মতো নিয়মিত কোনো বিষয় নয়। তার মতে যুক্তরাষ্ট্র এখন সেখানে কেবল মাঝে মাঝে হামলা চালাচ্ছে এবং বর্তমানে কোনো সরাসরি বা সক্রিয় যুদ্ধ চলছে না।

তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে চলতি সপ্তাহে তারা হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন এলাকায় ইরানের অন্তত ৬০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার নেটওয়ার্ক, নৌঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

একই সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে বিশেষ নিরাপত্তা প্রদান করছে। হোয়াইট হাউসের সূত্রমতে ওয়াশিংটন এখন কেবল সামরিক অভিযানের ওপর নির্ভর না করে ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে ইরানের বাণিজ্যিক সহযোগীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে তাদের ওপর চাপ বাড়ানো হতে পারে।

এতদসত্ত্বেও ইরানের প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার চীনের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। বরং ট্রাম্প চলতি মাসেই চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিন পিংকে একটি রাষ্ট্রীয় সফরে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইরানের কার্যকলাপে চীনের সমর্থনের বিষয়টিকে তিনি গুরুত্বহীন বলে মনে করেন। তিনি বলেন যে এই সংঘাতের সঙ্গে চীন সরাসরি জড়িত নয় এবং সেখানে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত নগণ্য।

ট্রাম্পের মতে চীন চাইলে এই সংকট সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারত। সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির বিকল্প হিসেবে সিরিয়ার মধ্য দিয়ে নতুন স্থলপথ ও পাইপলাইন তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে শেষ পর্যন্ত ইরানকে এই প্রণালি নিয়েই পড়ে থাকতে হবে যার হয়তো ভবিষ্যতে আর কোনো উপযোগিতা থাকবে না।

এছাড়া তিনি তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত পিকঅ্যাক্স পর্বতের একটি ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনায় নতুন করে হামলার ইঙ্গিত দেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি বিশাল ভাণ্ডার ওই সুরক্ষিত পাহাড়ি এলাকায় সরিয়ে নিয়েছে।

এস এম/ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button