নেপালে হিমবাহ ধস: সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শতাধিক মানুষকে উদ্ধারে চলছে প্রাণপণ চেষ্টা

কাঠমান্ডু, ২৯ আগস্ট – নেপালের রসুয়া জেলায় হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের তিন দিন অতিবাহিত হলেও ত্রিশূলী ৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শতাধিক মানুষকে উদ্ধারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
শনিবার সকাল থেকে নেপাল সেনাবাহিনী ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখ পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, আটকে পড়া ব্যক্তিদের দ্রুত নিরাপদে সরিয়ে নিতে সরকার সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
দেশটির দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত বুধবার হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৯৩৩ জন কর্মী নিখোঁজ হন। সেনাবাহিনী অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ইতোমধ্যে ৩৫০ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে একাধিক প্রকল্পে এখনো উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে।
উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য ভারত ও চীন থেকে বিশেষজ্ঞ দল নেপালে পৌঁছেছে। চীনের তিব্বত অঞ্চল থেকে আসা পাঁচ সদস্যের একটি দল এবং ভারতের ১১ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল বর্তমানে উদ্ধার অভিযানে কাজ করছে।
ভারতের এই দলে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত খনিশ্রমিকেরা রয়েছেন যারা অত্যন্ত সংকীর্ণ সুড়ঙ্গপথে উদ্ধার অভিযান চালাতে সক্ষম।
নেপালের জ্বালানিমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ জানিয়েছেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সত্ত্বেও ত্রিশূলী ৩বি প্রকল্প এলাকায় পুরোদমে কাজ চলছে। উদ্ধারকর্মীরা কাদা এবং বিশাল পাথর সরিয়ে পথ তৈরির চেষ্টা করছেন।
এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল উদ্ধার অভিযানে উন্নত প্রযুক্তি ও ড্রোন সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, চীন এবং নেপাল সীমান্তে হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৬৩৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং প্রায় তিন হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
এনএন/ ২৯ আগস্ট ২০২৬









