দক্ষিণ এশিয়া

ভারত ও চীনকে বাবা-মায়ের সঙ্গে তুলনা করলেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কাঠমান্ডু, ২৮ আগস্ট – পিতা-মাতাকে যেমন একে অপরের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা যায় না, তেমনি ভারত ও চীনের সম্পর্ককেও একটি দিয়ে অন্যটি প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল। হিমালয়বেষ্টিত দেশ নেপাল তার দুই শক্তিশালী প্রতিবেশীর মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট এক পক্ষকে বেছে নিতে আগ্রহী নয়।

কাঠমান্ডুতে আয়োজিত এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড আনভীক্ষা ভারত-নেপাল সংলাপ অনুষ্ঠানে তিনি দেশের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। সাংবাদিক রাহুল কানওয়ালের সঙ্গে এক বিশেষ আলাপচারিতায় তিনি জানান, নেপাল তার দুই প্রতিবেশীর কারও সঙ্গেই সম্পর্ক ছিন্ন করতে চায় না।

দুই দেশের মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নেওয়ার প্রশ্নে পারিবারিক সম্পর্কের রূপক ব্যবহার করে শিশির খানাল বলেন, আমরা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ জাতি হলেও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ যৌক্তিক। ভারত ও চীন উভয় দেশের সঙ্গেই আমাদের চমৎকার সম্পর্ক বিদ্যমান এবং আমরা তা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, আমি আমার পিতাকে যেমন মায়ের বিকল্প ভাবতে পারি না, তেমনি সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একটিকে অন্যটি দিয়ে সম্পূরক করা সম্ভব নয়। নেপালের কূটনৈতিক সম্পর্কগুলো অনন্য এবং এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নেপালের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হলো জাতীয় স্বার্থ।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যেমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকে, ঠিক তেমনি প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গেও ঐতিহাসিক ও সভ্যতার প্রেক্ষাপটে সম্পর্ক রাখা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক মহলে নেপাল চীনের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলে যে ধারণা প্রচলিত আছে, তাকে ভুল বলে অভিহিত করেন তিনি।

খানাল বলেন, চীনের সঙ্গে নেপালের শত বছরের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে ভারতের গুরুত্ব নেপালের জন্য অপরিসীম কারণ দেশটির মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের দুই-তৃতীয়াংশই ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত হয়। তিনি ভারতের পক্ষ থেকে আরও বিনিয়োগ প্রত্যাশা করেন।

এস এম/ ২৮ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language