মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পাল্টা কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের, পরমাণু বোমা তৈরির ইঙ্গিত

তেহরান, ২৭ আগস্ট – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক মহাপরিকল্পনার বিপরীতে মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রক্তক্ষয়ী পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশটির অর্থনীতিকে ধসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ স্তব্ধ করে দেওয়া হবে।
এমনকি প্রয়োজন পড়লে নিজেদের পারমাণবিক নীতি সংশোধন করে পরমাণু বোমা তৈরির চরম পথ বেছে নেওয়ার বার্তাও দিয়েছে দেশটি। সম্প্রতি মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ঘোষণা করেন যে ইরানের গোপন কৌশলগত বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কগুলো ধসিয়ে দিতে ওয়াশিংটন কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি এবং শিপিং খাতের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এমন প্রত্যক্ষ হুমকির মুখে নতিস্বীকার না করে বরং ওয়াশিংটন ও তার সহযোগীদের সমপরিমাণ আর্থিক ও সামরিক ক্ষতি সাধনের হুংকার দিচ্ছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক সংবাদ সম্মেলনে ইঙ্গিত দেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের নিজস্ব সামরিক ও কৌশলগত পরিকল্পনা রয়েছে।
পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি দিয়ে বর্তমানে তেল ও গ্যাস সরবরাহ কার্যত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের অন্যতম নেতা মহসিন রেজাই জানিয়েছেন, মার্কিন অর্থনৈতিক যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে এই অঞ্চল থেকে আর এক ফোঁটা তেলও বিদেশে রফতানি হতে দেওয়া হবে না।
একই সঙ্গে লোহিত সাগরে সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন যুদ্ধের ফ্রন্ট খোলার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। ইরান পরিষ্কার করেছে যে হরমুজ প্রণালির বিকল্প রুটগুলোও এখন তাদের রাডারের আওতায় রয়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনার পাশাপাশি ইরান এখন ইউরোপীয় দেশগুলোকেও যুদ্ধের আওতাভুক্ত করার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে।
বুলগেরিয়া তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে মার্কিন বাহিনীকে সহায়তা করলে সেখানে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান। ইরানের দাবি, যেকোনো আগ্রাসনের মূল উৎস ও কেন্দ্রবিন্দুকে লক্ষ্যবস্তু করার বৈধ অধিকার তাদের রয়েছে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের পারমাণবিক নীতি।
এতদিন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ দাবি করা হলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দেশটির নীতিনির্ধারকরা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি থেকে বেরিয়ে আসার প্রস্তাব করছেন। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে যা খুব অল্প সময়ের মধ্যে পারমাণবিক বোমায় রূপান্তর করা সম্ভব।
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন যত বেশি অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করবে, তেহরান তত বেশি আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করবে।
এস এম/ ২৭ আগস্ট ২০২৬









