মধ্যপ্রাচ্য

ইরানের নতুন সামরিক নীতি: প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে ‘আক্রমণাত্মক’ কৌশল গ্রহণের ঘোষণা

তেহরান, ২২ আগস্ট – সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের সামরিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা এখন থেকে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে সরে এসে আক্রমণাত্মক নীতি গ্রহণ করছে। তেহরানের নতুন এই সামরিক কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো শত্রুর যেকোনো হামলার তাৎক্ষণিক ও আরও শক্তিশালী জবাব দেওয়া।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, অতীতে ইরানের সামরিক মতবাদ প্রধানত প্রতিরক্ষামূলক ছিল। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা এই অবস্থানে পরিবর্তন আনতে উদ্বুদ্ধ করেছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, আক্রমণাত্মক নীতি মানেই সব ক্ষেত্রে আগে হামলা করা নয়, বরং শত্রুর আক্রমণের বিপরীতে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া।

আকরামিনিয়া আরও জানান, ইরানে কোনও সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযান মোকাবিলায় বিশেষ পুরস্কার কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে। কোনও মার্কিন সেনাকে ইরানের ভূখণ্ডে হত্যা বা আটক করতে পারলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য বা বেসামরিক নাগরিকদের জন্য ৫ বিলিয়ন তোমান (প্রায় ২৬ হাজার ডলার) পুরস্কার দেওয়া হবে। নারীদের ক্ষেত্রে এই পুরস্কারের পরিমাণ দ্বিগুণ অর্থাৎ ১০ বিলিয়ন তোমান করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া অভিযানে ব্যবহৃত অস্ত্রটিও তার মূল্যের দ্বিগুণ দামে কিনে নিয়ে সামরিক জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে।

সামরিক কমান্ড কাঠামোতেও সংস্কার এনেছে ইরান। খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সকে সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের সঙ্গে একীভূত করা হয়েছে। এর ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দ্রুত পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা বাড়বে বলে দাবি করেন এই সেনা কর্মকর্তা।

সাক্ষাৎকারে কাতারে নিখোঁজ তিন ইরানি পাইলটের বিষয়েও কথা বলেন তিনি। তিনি জানান, কাতারের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার সময় চারজন পাইলটের মধ্যে একজন নিহত হলেও বাকি তিনজনের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা এখনও অনিশ্চিত। এ বিষয়ে কাতার ও আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ক্রমেই কমছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এস এম/ ২২ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language