পশ্চিম তীরে নতুন বসতি নির্মাণে ইসরায়েলি উদ্যোগের তীব্র নিন্দা বিশ্বনেতাদের

তেল আবিব, ২১ আগস্ট – অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রায় ১ হাজার ২০০ নতুন বসতি নির্মাণের লক্ষ্যে ইসরায়েলের দরপত্র আহ্বানের উদ্যোগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে প্রভাবশালী পশ্চিমা দেশগুলো। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও কানাডা এই উদ্যোগকে অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যা দিয়েছে এবং ইসরায়েলকে অবিলম্বে এই পরিকল্পনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে এই বসতিগুলো অবৈধ। বিশ্বজুড়ে চাপের কারণে ইসরায়েল কয়েক দশক ধরে পূর্ব জেরুজালেমের ই ১ এলাকায় বসতি নির্মাণের কাজ বন্ধ রেখেছিল। ইসরায়েলের অনেক মিত্র এবং ফিলিস্তিনিদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে আলাদা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গড়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাবে। কারণ এটি পশ্চিম তীরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে দেবে এবং পূর্ব জেরুজালেমকে বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে।
গত বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো ও কানাডার পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয় যে পশ্চিম তীরের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল। সেখানে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা বেড়েছে এবং ফিলিস্তিনি অর্থনীতি সংকটে রয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয় যে এই সিদ্ধান্তের ফলে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ বন্ধ হয়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক মহলে ইসরায়েলের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ হবে।
পৃথক এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মহাসচিব এবং বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছেন যে এই পরিকল্পনা একটি অখণ্ড ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের পথে অস্তিত্বের সংকট তৈরি করবে। ইসরায়েলি শান্তিকামী গোষ্ঠীগুলোর আইনি বাধা উপেক্ষা করেই গত বুধবার ইসরায়েল ১ হাজার ২৩৪টি নতুন বসতি নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করেছে। এটি মূলত গত আগস্টে ইসরায়েল সরকার অনুমোদিত ৩ হাজার ৪০১টি আবাসন ইউনিটের একটি অংশ।
এই পরিকল্পনা ঘোষণার সময় ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ বলেছিলেন যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের ধারণাটি এখন মুছে ফেলা হচ্ছে। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ অক্টোবর। ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর থেকে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখল করে ইসরায়েল সেখানে প্রায় ১৬০টি বসতি গড়ে তুলেছে যেখানে বর্তমানে ৭ লাখ ইহুদি বসবাস করছে। ২০২২ সালের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই বসতি সম্প্রসারণের হার নাটকীয়ভাবে বেড়েছে।
এস এম/ ২১ আগস্ট ২০২৬









