দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসন বিরোধী সহিংসতা: দেশ ছাড়ছেন লাখো মানুষ

কেপটাউন, ৯ আগস্ট – সভ্যতার বিবর্তনে মানুষ এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে পাড়ি দিলেও বর্তমান সময়ে অভিবাসীদের জন্য পৃথিবী ক্রমশ সংকীর্ণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক কারণে উন্নত দেশে থিতু হতে চাওয়া মানুষেরা এখন উগ্র জাতীয়তাবাদের মুখে পড়ছেন।
ইউরোপ এবং আমেরিকার পাশাপাশি এই সংকট এখন দক্ষিণ আফ্রিকাতেও তীব্র আকার ধারণ করেছে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির প্রভাব যেমন অনুভূত হচ্ছে তেমনি মরক্কো থেকে স্পেনে প্রবেশের চেষ্টায় প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ।
তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্তমান পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। গত জানুয়ারি থেকে সেখানে শুরু হওয়া অভিবাসন বিরোধী বিক্ষোভ এখন সহিংস রূপ নিয়েছে। এর ফলে কেবল অভিবাসী নয় বরং সাধারণ বিদেশি নাগরিকরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তথ্য অনুযায়ী গত এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭৮ হাজারের বেশি অভিবাসী দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়েছেন। উগ্র জাতীয়তাবাদী সংগঠন মার্চ ফর মার্চ এবং অপারেশন দুদুলা এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে।
৩০ জুনের পর থেকে বিক্ষোভকারীরা ঘরে ঘরে গিয়ে হামলা চালাচ্ছে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করছে। মোজাম্বিক এবং নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলো তাদের নাগরিকদের নিহতের দাবি জানালেও দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার বিষয়টিকে সাধারণ অপরাধ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ বিদেশি হলেও দেশটির উচ্চ বেকারত্বের হার এবং সম্পদের বৈষম্য এই অস্থিরতার মূলে রয়েছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি নথিপত্রহীন অভিবাসীরা কম বেতনের কাজগুলো দখল করে স্থানীয়দের সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। এই গণস্থানান্তরের ফলে শিশুদের শিক্ষা এবং এইচআইভি আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে।
ইউনিসেফ জানিয়েছে বিপুল সংখ্যক শিশু শিক্ষা ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এই সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন এবং অভিবাসন আইন আরও কঠোর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এই পরিস্থিতি নিয়ে অন্যান্য আফ্রিকান দেশগুলোর সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। ঘানা এই বিষয়টি আফ্রিকান ইউনিয়নের সভায় তোলার প্রস্তাব দিলেও দক্ষিণ আফ্রিকা তাতে বাধা প্রদান করেছে।
এস এম/ ৯ আগস্ট ২০২৬









