রাশিয়া ও চীনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন পারমাণবিক কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র

ওয়াশিংটন, ৬ আগস্ট – রাশিয়া ও চীনের সাথে সম্ভাব্য আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা থেকে নতুন পারমাণবিক কৌশল তৈরি করছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এনবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধের ময়দানে আরও বিস্তৃত, বাস্তবসম্মত এবং নির্ভরযোগ্য পারমাণবিক বিকল্প দেয়ার উদ্দেশ্যেই এই গোপনীয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
পেন্টাগনের নীতিবিষয়ক প্রধান এলব্রিজ কোলবির তত্ত্বাবধানে প্রস্তাবিত এই নতুন কৌশলে দূরপাল্লার স্ট্র্যাটেজিক পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর একক নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পরিবর্তে স্বল্পপাল্লার ট্যাকটিক্যাল পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। মূলত রাশিয়া বা চীনের কাছ থেকে মিত্রদেশগুলোর ওপর কোনো আঞ্চলিক আক্রমণ হলে তা মোকাবিলার লক্ষ্যেই এই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার ঐতিহাসিক নিউ স্টার্ট পারমাণবিক চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার ছয় মাসের মাথায় পেন্টাগনের এই পদক্ষেপ সামনে এলো।
২০১০ সালে স্বাক্ষরিত এবং ২০২১ সালে বর্ধিত হওয়া এই চুক্তির আওতায় দুই দেশেরই মোতায়েনকৃত পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র এবং দূরপাল্লার ডেলিভারি ব্যবস্থার নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারিত ছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হলেও রাশিয়া জানিয়েছিল যে ওয়াশিংটন আগ বাড়িয়ে পারমাণবিক সক্ষমতা না বাড়ালে মস্কোও উত্তেজনা বাড়াবে না।
এর আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আরও এক বছরের জন্য চুক্তির শর্ত মেনে চলার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে ওয়াশিংটন এই আলোচনায় চীনকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তোলায় বিষয়টি জটিল হয়ে পড়ে।
আনুমানিক ৬০০ পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্রের অধিকারী বেইজিং এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। চীনের দাবি অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় অস্ত্রাগার থাকা দেশগুলোকেই নিরস্ত্রীকরণের মূল দায়িত্ব নিতে হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়াও ন্যাটোর পারমাণবিক শক্তিধর দেশ ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যকে চুক্তির আওতায় আনার দাবি তোলে।
অন্যদিকে রাশিয়াও তাদের পারমাণবিক নীতি সংশোধন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে। মস্কো জানিয়েছে যে, কোনো পারমাণবিক শক্তির সহায়তায় অ-পারমাণবিক দেশ আক্রমণ চালালে তা যৌথ আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে। এমন পরিস্থিতিতে সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারে দ্বিধা করবে না বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এস এম/ ৬ আগস্ট ২০২৬









