সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপ: কঠোর হুঁশিয়ারি

তেহরান, ২ আগস্ট – ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কার মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে তেহরান। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে টেলিফোনে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিকের এই যোগাযোগকে চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফোনালাপে আব্বাস আরাগচি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরান উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলায় অংশগ্রহণকারী যেকোনো আঞ্চলিক দেশকেও তেহরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হবে। ইরানের শীর্ষ নেতারা এর আগেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, তাদের জ্বালানি অবকাঠামো আক্রান্ত হলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আঘাত হানা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তীব্র উত্তেজনার এই সময়ে ইরান তার কূটনৈতিক যোগাযোগ সম্প্রসারিত করছে। আরাগচি ইতিমধ্যে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গেও আলাদাভাবে টেলিফোনে কথা বলেছেন।
এসব আলোচনায় সম্ভাব্য সংঘাত বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তেহরান পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, তাদের সার্বভৌমত্ব বা জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো আক্রমণের কঠোর মোকাবিলা করা হবে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যাতায়াতের নিয়ম উপেক্ষা করে অননুমোদিত রুট ব্যবহার করছে।
তেহরানের অভিযোগ, বাণিজ্যিক জাহাজের আড়ালে সামরিক চলাচল এবং নতুন করে নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ আরোপের মাধ্যমে ওয়াশিংটন স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে। ইরানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন সামরিক অভিযানের গুঞ্জনের মধ্যেই ইরান এই কড়া হুঁশিয়ারি দিল।
এস এম/ ২ আগস্ট ২০২৬









