শিক্ষার্থীদের ‘ক্ষমা’ করে বিতর্কে মোদি, ক্ষমা চাওয়ার দাবি বিরোধী দলগুলোর

নয়া দিল্লি, ২ আগস্ট – শিক্ষার্থীদের ‘ক্ষমা করে দিয়েছেন’ বলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির করা এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। মোদির এই বক্তব্যের পর দেশটির বিরোধী দলগুলো একযোগে আক্রমণ শানিয়ে বলেছে, শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করা নয়, বরং তাদের কাছে প্রধানমন্ত্রী মোদিরই ক্ষমা চাওয়া উচিত।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের প্রতি ‘ক্ষমা’ প্রদর্শনের মন্তব্যের জেরে নরেন্দ্র মোদিকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, শিক্ষার্থীদের মোদির ক্ষমার কোনো প্রয়োজন নেই।
বরং দুর্নীতির ভারে জর্জরিত একটি পরীক্ষাব্যবস্থা উপহার দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকেই তাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। এর আগে গত শুক্রবার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন মোদি। সেখানে তিনি বলেন, সমাজে যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে তা তিনি উপলব্ধি করতে পারছেন।
তবে এখন তরুণ সমাজকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার সময় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করে দিতে চান। কারণ মানুষ ভুল করতেই পারে। তবে আন্দোলনে অশালীন ভাষা ব্যবহার বিশেষ করে নারী আন্দোলনকারীদের আচরণকে তিনি সাংস্কৃতিকভাবে হতাশাজনক বলে অভিহিত করেন।
মূলত দিল্লির জন্তর মন্তরের বিক্ষোভে কয়েকজন আন্দোলনকারী মোদিকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে মোদি বলেন, শুধু তাকে নয়, এমনকি তার প্রয়াত মাকেও গালিগালাজ করা হয়েছে। মোদির এই বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন রাহুল গান্ধী।
তিনি এক পোস্টে বলেন, সন্তান হারানোর বেদনার চেয়ে বড় কোনো কষ্ট নেই। ভারতে প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রাণ হারানোর পেছনে একটি পরিবার রয়েছে যারা আজীবন সেই দুঃখ বয়ে বেড়াবে। রাহুল বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষা বাতিলের কারণে লাখ লাখ তরুণের প্রস্তুতি এক রাতেই ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।
যেখানে পুরো ব্যবস্থাটাই অসৎ, সেখানে প্রধানমন্ত্রী কোন মুখে শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করার কথা বলেন? এদিকে কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা পি চিদাম্বরমও কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকারের সমালোচনা করলে যারা অনলাইনে অশালীন আক্রমণ চালায়, সেই বিজেপি সমর্থকদেরও কি প্রধানমন্ত্রী ক্ষমা করে দিয়েছেন?
সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও একইভাবে সুর চড়িয়েছেন। তিনি বলেন, জনগণ বিজেপিকে কোনোদিন ক্ষমা করবে না। এমনকি তারা যদি মাটিতে শুয়েও ক্ষমা চায়, তবুও মানুষ তাদের ফিরিয়ে দেবে। অখিলেশ বলেন, এই অহংকারই একদিন বিজেপির পতনের কারণ হবে।
শিবসেনা নেতা উদ্ধব ঠাকরে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা দাবি করেন। তবে মোদি সরকার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তারা সংস্কারের পথে হাঁটছে। ইতোমধ্যে পাবলিক এক্সামিনেশনস বিল পাস করা হয়েছে এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার জন্য টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। বিজেপি নেতা মুখতার আব্বাস নাকভি দাবি করেন, বিরোধী দলগুলো হতাশায় ভুগে এসব মন্তব্য করছে।
এস এম/ ২ আগস্ট ২০২৬









