মার্কিন বিশেষ দূত ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠকে জামায়াত আমিরের প্রতিক্রিয়া

সিলেট, ২ আগস্ট – জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদির মধ্যকার বৈঠক কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি উল্লেখ করেন, বৈঠকটি যদি কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ না হয়ে দুই দেশের কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে হয়ে থাকে, তবে সেই আলোচনা সরাসরি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গেই হওয়া উচিত ছিল। প্রয়োজনে বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দলের সঙ্গেও আলোচনা করা যেতে পারত।
শনিবার সিলেটে স্থানীয় দৈনিক জালালাবাদ পত্রিকার ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় জামায়াত আমির নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকার এমন কিছু প্রক্রিয়া শুরু করেছে যা জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি করছে। কয়েক বছর আগে অবসরে যাওয়া একজন দলীয় ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনে পদায়ন করার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের উদাহরণ টেনে বলেন, সেই নির্বাচন দেখে পুরো জাতি শঙ্কিত। আবারও যদি একই ধরনের কৌশলী পাঁয়তারা চালানো হয়, তবে নির্বাচনের ব্যাপারে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।
তিনি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দলীয় অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নিজের দলকে নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি দেশের সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বও তাকে পালন করতে হবে। একই সঙ্গে দেশজুড়ে চলা চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হওয়ার তাগিদ দেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি বিএনপির ভূমিকারও সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর বিএনপি গণভোটের প্রশ্নে তাদের পূর্বের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। যেখানে সকল পক্ষ গণভোটের পক্ষে মত দিয়েছিল, সেখানে হঠাৎ করে তাদের অবস্থান পরিবর্তনের কারণ নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
এনএন/ ২ আগস্ট ২০২৬









