হবিগঞ্জে দিনভর নাটকীয়তা ও বাধার পর এনসিপির মামলা দায়ের

হবিগঞ্জ, ৩০ জুলাই – হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রায় হামলার ঘটনায় দিনভর নাটকীয়তা ও পুলিশের বাধার পর শেষ পর্যন্ত মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার রাতে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে এনসিপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।
কেন্দ্রীয় নেতাদের দফায় দফায় বাধা এবং দীর্ঘ আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত রাতে অভিযোগ গ্রহণের অনুমতি দেয় পুলিশ। হবিগঞ্জ জেলা যুব শক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের রুবেল বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদেলের সভাপতি রাজিব আহমেদকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তারা সবাই স্থানীয় সংসদ সদস্য জি কে গউছের অনুসারী বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় ২০ লাখ টাকার ল্যাপটপ ও যন্ত্রপাতি ছিনতাই, ৫ লাখ টাকা নগদ লুট এবং ৫০ লাখ টাকার গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রাত ৮টার দিকে কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ জমা দেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী, দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, ডা. মাহমুদা মিতু ও সারোয়ার তুষার।
হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রবাস কুমার সিংহ অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বিকেলে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওয়ানা হলে শায়েস্তাগঞ্জ শ্রীমঙ্গল সড়কের শ্রীমঙ্গল চা কন্যা ভাস্কর্য এলাকায় পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে পড়ে এনসিপির গাড়িবহর। সেখানে পুলিশের সাথে নেতাকর্মীদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে বাধা অতিক্রম করে সামনে এগোলেও রশিদপুর গ্যাস ফিল্ড এলাকায় পুনরায় পুলিশের বাধার মুখে পড়ে বহরটি। শেষমেশ কামাইছড়া এলাকায় রাস্তা আটকে দেওয়া হলে নেতারা রাস্তায় বসে অবস্থান নেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশে জুলাই পদযাত্রার সময় শান্তিপ্রিয় মানুষের ওপর সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। আমরা গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে মামলার জন্য আসলেও আমাদের বারবার বাধা দেওয়া হয়েছে।
এনসিপি নেতারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে স্থানীয় এমপির অনুসারীরা এই হামলা চালিয়েছে এবং পুলিশ তাদের সুরক্ষা দিচ্ছে।
এনএন/ ৩০ জুলাই ২০২৬









