নেতানিয়াহুর ওয়াশিংটন সফর: ট্রাম্পের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন ও নতুন সংকট

ওয়াশিংটন, ২৯ জুলাই – ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এক ঘনিষ্ঠ বন্ধন গড়ে তুলেছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি এই সুসম্পর্ককে তার ক্ষমতার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
শৈশব থেকে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার কারণে মার্কিন রাজনীতি ও সংস্কৃতি বোঝার ক্ষেত্রে তার বিশেষ দক্ষতা রয়েছে যা তিনি বিভিন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে নিজের পক্ষে রাখতে ব্যবহার করেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিষয়ে সম্মত হলেন তখন মনে করা হয়েছিল যে নেতানিয়াহুর জন্য এর চেয়ে বড় বন্ধু আর কেউ হতে পারে না।
তবে বর্তমানে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটছে। ইরানের সাথে যুদ্ধ থমকে যাওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে ট্রাম্পের স্বতন্ত্র চিন্তা ভাবনার কারণে নেতানিয়াহুর সেই একক আধিপত্য এখন প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অক্টোবরে ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন এবং নিজের বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির মামলার প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহু মঙ্গলবার ওয়াশিংটন সফর করছেন।
এই সফরের মাধ্যমে তিনি মূলত ইসরায়েলি জনগণের সামনে ট্রাম্পের সঙ্গে তার সখ্যের চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করবেন। তবে সম্পর্কের টানাপোড়েন এখন অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে তুরস্কের কাছে এফ ৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি এবং সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক সহযোগিতার প্রশ্নে ওয়াশিংটনের অবস্থান ইসরায়েলের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর পাশাপাশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস আচরণ ও একজন মার্কিন সিনেটরকে আটকের ঘটনা মার্কিন কংগ্রেসে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে নেতানিয়াহু এখন যুক্তরাষ্ট্রে একপ্রকার বর্জনীয় ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন এবং ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের অনেকেই তাকে সন্দেহের চোখে দেখছেন।
যদিও ট্রাম্প প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিতে পারেন তবে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প নিজের রাজনৈতিক স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনকি ট্রাম্প নতুন কোনো ইসরায়েলি নেতৃত্বকে সমর্থনের ইঙ্গিতও দিতে পারেন।
এস এম/ ২৯ জুলাই ২০২৬









