মধ্যপ্রাচ্য

হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে ইরাকের নতুন তেল রফতানি করিডোর পরিকল্পনা

বাগদাদ, ১৯ জুলাই – হরমুজ প্রণালীর ওপর একক নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে তেল রফতানির নতুন করিডোর নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ইরাক। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বসরা থেকে উত্তর দিকের কিরকুক হয়ে তুরস্কের সিহান বন্দর এবং সেখান থেকে সিরিয়ার বানিয়াস পর্যন্ত একটি কৌশলগত তেল পাইপলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করছে বাগদাদ।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন থেকে ইরাকি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন দেশটির তেলমন্ত্রী বাসিম মোহাম্মদ খুদাইর। তিনি জানান, ইরাকের তেল মন্ত্রণালয়ের প্রধান লক্ষ্য হলো রফতানি পথকে বৈচিত্র্যময় করা এবং পণ্য সরবরাহে শুধুমাত্র হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভর না থাকা।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান শেভরন ও টিই ক্যাপিটাল এবং কাতারের ইউসিসি সংস্থার একটি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে ইরাক। বর্তমানে বসরা থেকে কিরকুক পর্যন্ত কৌশলগত পাইপলাইনটি নির্মাণের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত সমীক্ষা চলছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, কিরকুক থেকে পাইপলাইনটি তুরস্কের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর সিহান পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি সিরিয়ার উপকূলীয় শহর বানিয়াস পর্যন্ত একটি শাখা পাইপলাইন নির্মাণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

উত্তর পশ্চিম সিরিয়ার ভূমধ্যসাগর উপকূলে অবস্থিত বানিয়াস শহরটি দেশটির অন্যতম প্রধান তেল শোধনাগার এবং রফতানি টার্মিনাল। কয়েক দশক আগে কিরকুক থেকে এই পথে তেল সরবরাহ সচল থাকলেও যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে অবকাঠামোটি অকার্যকর হয়ে পড়ে।

ওপেকের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে ইরাক এখন ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প পথের সন্ধান করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ইউরোপের বাজারে ইরাকি তেলের সরবরাহ আরও নিরাপদ ও স্থিতিশীল হবে।

এস এম/ ১৯ জুলাই ২০২৬


Back to top button