ইরানের ভেতরে বড় হামলার পরিকল্পনা ট্রাম্পের, হোয়াইট হাউসে জরুরি বৈঠক

ওয়াশিংটন, ১৫ জুলাই – ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা এক ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে। হরমুজ প্রণালির বাইরে ইরানের অভ্যন্তরে বড় ধরনের সামরিক হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরানকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করতে এবং পরমাণু চুক্তির শর্তাবলী মানতে বাধ্য করতেই ট্রাম্প এই কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এই বিশেষ বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথসহ সিআইএ প্রধান ও শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী এক কঠোর বার্তায় জানিয়েছে যে পশ্চিম এশিয়ার তেল ও গ্যাসের সুফল হয় সবাই ভোগ করবে অথবা কেউই পাবে না। প্রয়োজনে তারা অন্যান্য প্রধান রপ্তানি রুটগুলোও বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এদিকে হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন অঞ্চল এবং ইরানের দক্ষিণ উপকূলে টানা চতুর্থ দিনের মতো হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
মার্কিন সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের রাডার ব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করা। মঙ্গলবার বিকেল থেকে ইরানের প্রধান বন্দরগুলোতে নতুন করে নৌ অবরোধ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এর পাল্টা জবাবে ইরান জর্ডান, কুয়েত এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে আগামী দিনগুলোতে হামলার তীব্রতা আরও বাড়বে।
তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে আগামী সপ্তাহের মধ্যে ইরানের সব গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের মতে যদি ইরান আলোচনায় বসতে রাজি না হয় তবে সামনের দিনগুলো তাদের জন্য অত্যন্ত প্রতিকূল হবে।
এছাড়া পিক্যাক্স মাউন্টেন নামক একটি ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনার ওপর কড়া নজর রাখছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে মার্কিন বাহিনীর কাছে এমন শক্তিশালী বোমা রয়েছে যা মাটির গভীর স্তরে গিয়েও নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।
এস এম/ ১৫ জুলাই ২০২৬









