ইনভিকটাস গেমস নয়, প্রিন্স হ্যারির যুক্তরাজ্য সফরে আলোচনায় কেবল বিতর্ক

লন্ডন, ১১ জুলাই – দীর্ঘ বিরতির পর যুক্তরাজ্য সফরে এসে প্রিন্স হ্যারি চেয়েছিলেন তার স্বপ্নের প্রকল্প ইনভিকটাস গেমসের দিকে বিশ্ববাসীর নজর ফেরাতে। ধারণা করা হয়েছিল এই সফরের মাধ্যমে চার বছর পর মেগান মার্কেল প্রথমবারের মতো ব্রিটিশ জনগণের সামনে উপস্থিত হবেন। তবে শেষ পর্যন্ত চিত্রটি পুরোপুরি ভিন্ন রূপ নেয়।
বিভিন্ন বিতর্ক, আইনি পরাজয় এবং রাজপরিবারের সঙ্গে দূরত্বের কারণে হ্যারির এই সফরটি ইনভিকটাস গেমসের প্রচারণার বদলে ব্যক্তিগত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। সফরের শুরুতে ডাচেস অব সাসেক্স মেগান মার্কেলের উপস্থিতি নিয়ে প্রবল জল্পনা থাকলেও শেষ মুহূর্তে জানানো হয় তিনি যুক্তরাজ্যে কোনো জনসমক্ষে উপস্থিত হবেন না।
যদিও বাকিংহাম প্যালেস থেকে রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলার সঙ্গে হ্যারি এবং মেগানের ব্যক্তিগত সাক্ষাতের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে সেই সাক্ষাতের কোনো ছবি বা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করায় তা জনমতের ওপর বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারেনি। হ্যারির এই সফরের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে আদালতের পক্ষ থেকে।
ইনভিকটাস গেমসের প্রথম আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের দিনই জানা যায় যে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রকাশকের বিরুদ্ধে হ্যারির আনা সব আইনি দাবি আদালত খারিজ করে দিয়েছে। প্রিন্স হ্যারি যখন মঞ্চে বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখন সংবাদটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ফলে অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্যের চেয়ে হ্যারির এই আইনি বিপর্যয় সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে প্রাধান্য পায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে তার নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনও বাতিল করতে হয়। সফরের বিভিন্ন ধাপে হ্যারির আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে বাকিংহাম প্যালেস ও সাসেক্স শিবিরের পরস্পরবিরোধী তথ্য রাজপরিবারের মধ্যকার টানাপোড়েনকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
তবে বার্মিংহামের ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে ইনভিকটাস গেমসের আয়োজনে ভিন্ন এক হ্যারিকে দেখা গেছে। সেখানে তিনি প্রতিযোগী ও সমর্থকদের সঙ্গে বেশ আন্তরিক সময় কাটান।
শারীরিক প্রতিবন্ধী সেনাসদস্যদের সঙ্গে খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তিনি তাদের উষ্ণ আলিঙ্গনে আবদ্ধ করেন। কিন্তু সব মিলিয়ে এই সফর হ্যারি ও মেগানের জন্য ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরির যে সুযোগ এনেছিল তা নানা কারণে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।
এস এম/ ১১ জুলাই ২০২৬









