বান্দরবানে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে এক শিশুর মৃত্যু, নাফাখুমে আটকা ৮৭ পর্যটক; সকল পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ

বান্দরবান, ৭ জুলাই – টানা কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবান জেলায় চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ভেসে গিয়ে নাইক্ষ্যংছড়িতে আলিয়া সোলতানা নামে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে থানচি উপজেলার দুর্গম নাফাখুম জলপ্রপাত এলাকায় ৭৮ জন পর্যটক ও ৯ জন গাইডসহ মোট ৮৭ জন আটকা পড়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলার সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারি বর্ষণে থানচির সাঙ্গু নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় উপজেলা সদরের সাথে তিন্দু ও রেমাক্রী ইউনিয়নের নৌযোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এর ফলে নাফাখুম এলাকায় অবস্থানরত পর্যটকরা আটকা পড়েন।
জননিরাপত্তার কথা ভেবে জেলা প্রশাসন জেলার সব পর্যটন কেন্দ্র, ঝর্ণা, পাহাড়ি ট্রেইল ও নদীপথে ভ্রমণে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। লামা ও আলীকদমে মাতামুহুরী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আলীকদমের প্রধান সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়া বান্দরবান সদর এলাকার কালাঘাটা, বালাঘাটা ও বনরূপাসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দী পরিবারগুলোর মাঝে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।
বৃষ্টির কারণে বান্দরবান থেকে কেরানীহাট সড়কের একটি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের খুঁটি হেলে পড়ায় বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচি উপজেলায় প্রায় ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতাল ও ইন্টারনেট সেবাসহ জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে।
বিদ্যুৎ বিভাগের নিরলস প্রচেষ্টায় পরবর্তীতে সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়। বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস জানিয়েছেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সাতটি উপজেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সচল রাখার কাজ চলছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তিনি পর্যটকদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
এস এম/ ৭ জুলাই ২০২৬









