ফুটবল

ভিনিসিয়ুস-ক্যাসিমেরো থাকতেও কেন ব্রুনো? বিতর্কিত পেনাল্টি নিয়ে মুখ খুললেন বিধ্বস্ত আনচেলত্তি!

নিউজার্সি, ৬ জুলাই – ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলন কক্ষে যখন ঢুকলেন, তখন তার চেনা চটপটে ভাবটা উধাও। ধীর ও মৃদুপায়ে হেঁটে আসলেন ব্রাজিলের ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ফর্সা চেহারাজুড়ে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে চরম বিপর্যয় আর বিধ্বস্ততার ছাপ। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ডাগআউটে বসে কোটি কোটি সেলেসাও সমর্থকের ‘হেক্সা’ স্বপ্ন পূরণে ব্যর্থ এই কিংবদন্তি মাস্টারমাইন্ড। তবে হারের বেদনার মাঝেই তাকে মুখোমুখি হতে হলো ম্যাচজুড়ে ঘুরপাক খাওয়া সবচেয়ে বড় প্রশ্নটার— ভিনিসিয়ুস, ক্যাসিমেরোর মতো বিশ্বসেরা অভিজ্ঞ তারকারা মাঠে থাকতেও ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি শট নিতে কেন এলেন ব্রুনো গুইমারেস?

১০ম মিনিটে ব্রুনোর সেই পেনাল্টি মিসই মূলত ম্যাচের ভাগ্য এবং ব্রাজিলের আত্মবিশ্বাসে বড় ফাটল ধরিয়ে দিয়েছিল। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অবধারিতভাবেই আনচেলত্তিকে এই প্রশ্নের কাঠগড়ায় দাঁড় করান সাংবাদিকরা।

সমর্থকদের মনে ক্ষোভ আর প্রশ্ন থাকলেও আনচেলত্তি জানালেন, এই সিদ্ধান্ত হুট করে নেওয়া হয়নি। পেনাল্টি টেকার নির্ধারণের পেছনে টেকনিক্যাল স্টাফদের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ছিল। কার্লো আনচেলত্তি বলেন, “পেনাল্টির জন্য অবশ্যই দলের সেরা পছন্দ নেইমার। তার অনুপস্থিতিতে দ্বিতীয় পছন্দ রাফিনিয়া। কিন্তু মেক্সিকোর বিপক্ষে ওই সময় (ম্যাচের শুরুতে) যারা মাঠে ছিলেন, তাদের মধ্যে স্পট-কিকে সেরা ছিল ব্রুনো। তাই তাকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।”

তিনি আরও খোলসা করেন যে, পেনাল্টি নেওয়ার যে ক্রমধারা (Roster) কোচিং স্টাফরা তৈরি করে রেখেছিলেন, সেখানে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র কিংবা গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির চেয়েও টেকনিক্যালি এগিয়ে রাখা হয়েছিল গুইমারেসকে। আর তালিকার ওপরের দিকে থাকা বাকি ফুটবলারদের কেউ ওই মুহূর্তে মাঠে ছিলেন না।

হতাশ আনচেলত্তি মেলালেন হারের সমীকরণ

বিশ্বকাপের শেষ ষোলো বা প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালেই ব্রাজিলের মতো পরাশক্তির বিদায় কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না সমর্থকরা। দুঃখ ভরাক্রান্ত কণ্ঠে সেলেসাও বস বলেন, “ফলাফলটি আসলেই হতাশার। কোটি কোটি সমর্থকদের মতো আমরাও সমানভাবে হতাশ এবং দুঃখিত।”

ম্যাচ হারের মূল কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এই ইতালিয়ান কোচ কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন ফরোয়ার্ডদের ফিনিশিং ব্যর্থতাকে। তার মতে, “যখন খেলা ০-০ সমতায় ছিল, তখন আমরা গোল করার একের পর এক দারুণ সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু স্ট্রাইকাররা গোল মিস করেছে। এই ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতাই মূলত দুই দলের মধ্যে আসল পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।”

এন্দ্রিক-নেইমার ম্যাজিকেও মেলেনি গোল

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে তরুণ তুর্কি এন্দ্রিক এবং পরে নেইমার নামার পর ব্রাজিলের খেলার গতি ও আক্রমণাত্মক কৌশলে বড় পরিবর্তন এসেছিল। এমনকি গোলরক্ষককে একদম একা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন উদীয়মান তারকা এন্দ্রিক।

এ প্রসঙ্গে আনচেলত্তি আক্ষেপ করে বলেন, “এন্ড্রিক মাঠে নামার পর আমরা প্রতিপক্ষের অ্যাটাকিং থার্ডে অনেক বেশি জায়গা পাচ্ছিলাম। বল নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে একের পর এক আক্রমণ— সব ঠিকঠাক হলেও নরওয়ের জালের দেখা আমরা সময়মতো পাইনি, যা পরে আমাদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে।”

পেনাল্টি মিস আর সুযোগ হাতছাড়ার এই খেসারত দিয়ে আরও একবার ট্র্যাজিক বিদায় ঘটল ব্রাজিলের। আনচেলত্তির এই ‘পেনাল্টি থিওরি’ কি আপনি সমর্থন করেন?

এনএন/ ৬ জুলাই ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language