নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে সম্মান অর্জন করেছে মরক্কো: কোচ ওয়াহবি

রাবাত, ৩০ জুন – নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা সমতায় শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মরক্কো। ৩-২ ব্যবধানের এই জয়ের পর মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি বলেছেন, মাঠের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তারা বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের প্রাপ্য সম্মান আদায় করে নিয়েছেন।
নকআউট পর্বের পরবর্তী ম্যাচে আফ্রিকার এই দলটিকে স্বাগতিক কানাডার মোকাবিলা করতে হবে। ম্যাচ শেষে ওয়াহবি এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, মরক্কো এখন সবার শ্রদ্ধা অর্জন করেছে এবং এটি কেবল কথার কথা নয় বরং মাঠের লড়াইয়ে তা প্রমাণিত হয়েছে।
এর আগে মরক্কোর অনূর্ধ্ব ২০ দলের দায়িত্ব পালন করা এই কোচ বর্তমানে জাতীয় দলের দেখভাল করছেন। তিনি মনে করেন, তার খেলোয়াড়রা কেবল একটি ম্যাচ জেতার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামেন না। দলের সাফল্যের পেছনে সমর্থকদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের সব বয়সভিত্তিক দল কেবল ফুটবলের জন্য লড়ে না।
তাদের পেছনে কোটি মানুষের আবেগ জড়িয়ে থাকে। মরক্কোতে গভীর রাত হলেও মানুষ জেগে খেলা উপভোগ করে। সমর্থকদের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসাই খেলোয়াড়দের শেষ পর্যন্ত লড়াই করার অনুপ্রেরণা জোগায়। পুরো ম্যাচে দলের আধিপত্যের দাবি করে কোচ বলেন, টাইব্রেকারে জয় এলেও খেলার পুরোটা সময় আমরা নেদারল্যান্ডসকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলাম।
বলের দখল থেকে শুরু করে আক্রমণ এবং গোলের সুযোগ তৈরির দিক থেকে আমরাই এগিয়ে ছিলাম। আমাদের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল এবং টাইব্রেকারের জন্য আমাদের হাতে একজন দক্ষ গোলরক্ষক ছিল। নেদারল্যান্ডসের রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে অবাক হওয়ার কথা জানিয়ে ওয়াহবি বলেন, ডাচরা সাধারণত বল দখলে রেখে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে পছন্দ করে।
কিন্তু এই ম্যাচে তারা অনেক নিচে নেমে রক্ষণ সামলানোর চেষ্টা করেছে। আমি বিষয়টিকে আমাদের দলের প্রতি তাদের সম্মান হিসেবেই দেখছি। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলার পর থেকেই মরক্কোর ফুটবলের মানসিকতায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে বলে তিনি মনে করেন।
আগামীতে কানাডার বিপক্ষে ম্যাচটি চ্যালেঞ্জিং হবে উল্লেখ করে তিনি জানান, নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে পারলে মরক্কোকে থামানো কঠিন হবে। তবে ফুটবলে কেউ অপরাজেয় নয় বলে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন তিনি। সামান্য ভুলের কারণে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার সম্ভাবনা থাকে বলেও খেলোয়াড়দের মনে করিয়ে দেন ওয়াহবি।
এস এম/ ৩০ জুন ২০২৬









