ভেনেজুয়েলায় বিধ্বংসী ভূমিকম্প: ৩২ জনের মৃত্যু, প্রাণহানি লাখ ছাড়ানোর আশঙ্কা

কারাকাস, ২৫ জুন – ভেনেজুয়েলায় গত বুধবার আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আহত হয়েছেন আরও কয়েক শ মানুষ। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ প্রাথমিকভাবে এই হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে এই ভয়াবহ দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখের মধ্যে পৌঁছাতে পারে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী প্রাণহানি ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ৪৪ শতাংশ এবং তা ১ লাখ পার হওয়ার সম্ভাবনা ৩০ শতাংশ।
সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে ব্যাপক প্রাণহানি ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি অত্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। ভয়াবহ এই ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী ব্যাপক ক্ষতির কারণে মাইকেতিয়ায় অবস্থিত সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
একইসঙ্গে পাতালরেল ও সাধারণ রেল চলাচল স্থগিত করার পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অন্যান্য সব ধরনের কার্যক্রমও আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। রদ্রিগেজ জানান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফকে জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং পুরো উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্বে থাকবেন বলিভারিয়ান ন্যাশনাল গার্ডের কমান্ডার জেনারেল।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেয়ো জানিয়েছেন সরকার দ্রুততম সময়ে সহায়তা পৌঁছে দিতে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি নাগরিকদের উদ্দেশ্যে শিশু ও বয়স্কদের ব্যাপারে বিশেষ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। রাজধানী কারাকাসের আলতামিরা এলাকায় একাধিক ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
উদ্ধারকাজে গতি আনতে তিনি চালকদের সড়ক ফাঁকা রাখার অনুরোধ করেছেন যাতে জরুরি সেবাকর্মীরা দ্রুত যাতায়াত করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সান ফেলিপের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
এর ঠিক কিছুক্ষণ পরই ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরও একটি বিধ্বংসী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। জোড়া ভূকম্পনের ধাক্কায় রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
এস এম/ ২৫ জুন ২০২৬









