উত্তর আমেরিকা

ইরানের জব্দ করা অর্থ ফেরত দিতে হবে বলে জানালেন ট্রাম্প

ওয়াশিংটন, ১৮ জুন – ইরানের জব্দ করা বিপুল পরিমাণ অর্থ তেহরানকে শেষ পর্যন্ত ফেরত দিতেই হবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সম্পদ নয় বরং ইরানের সম্পদ।

জব্দকৃত অর্থ ফেরত না দিলে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষুণ্ণ হতে পারে বলেও তিনি সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন। সম্প্রতি ফ্রান্সে আয়োজিত জি সেভেন সম্মেলন পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান,

চুক্তির শর্তাবলী যথাযথভাবে মেনে চললে ইরানের পুনর্গঠন এবং দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এই বিনিয়োগ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র করবে না বরং আঞ্চলিক অংশীদারদের সহযোগিতায় এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে।

তিনি আরও বলেন, তেহরান যদি সঠিক আচরণ করে তবেই বিনিয়োগকারীরা সেখানে পুঁজি বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন। এর আগে গত রবিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এতে সব ধরনের সামরিক তৎপরতা বন্ধ করা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এছাড়া ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে আলোচনার পথও এই সমঝোতার মাধ্যমে প্রশস্ত হয়েছে। বিগত কয়েক বছরে ইরান প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বলে ট্রাম্প উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরোপিত প্রাথমিক ও গৌণ নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বুধবার রাতে ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে এক নৈশভোজের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই সমঝোতা স্মারকটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করেন।

এস এম/ ১৮ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language