ইন্দোনেশিয়ায় মাউন্ট লিওতোবি আগ্নেয়গিরিতে ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত, বিমানবন্দর বন্ধ

জাকার্তা, ৫ জুন – প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত দ্বীপরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ায় আবারও প্রকৃতির রুদ্ররূপ! দেশটির পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত অত্যন্ত সক্রিয় আগ্নেয়গিরি ‘মাউন্ট লেওতোবি লাকি-লাকি’-তে পরপর একাধিকবার ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে বিস্তীর্ণ এলাকার আকাশে উড়ছে বিশাল কালো ধোঁয়া ও জ্বলন্ত ছাইয়ের কুণ্ডলী। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলের একটি স্থানীয় বিমানবন্দর সাময়িকভাবে পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে দেশটির প্রশাসন।
দেশটির জাতীয় আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থার দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, শুক্রবার (৫ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে আচমকাই গর্জে ওঠে আগ্নেয়গিরিটি।
অগ্ন্যুৎপাতের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, জ্বালামুখ থেকে প্রায় ২ দশমিক ৫ কিলোমিটার (আড়াই কিমি) উচ্চতা পর্যন্ত তপ্ত আগ্নেয় ছাই ও অন্যান্য বিপজ্জনক উপাদান ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রশাসন অবিলম্বে মাউন্ট লেওতোবি লাকি-লাকির জন্য দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা (Level 3 Alert) জারি করেছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে আগ্নেয়গিরির মূল জ্বালামুখের চারপাশে ৫ কিলোমিটার এলাকাকে ‘রেড জোন’ বা ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সর্বসাধারণের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অগ্ন্যুৎপাতের জেরে তৈরি হওয়া ছাইয়ের মেঘের কারণে সৃষ্ট প্রধান প্রধান সমস্যাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
বন্ধ বিমানবন্দর: আগ্নেয়গিরি থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত স্থানীয় বিমানবন্দরটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
ফ্লাইট বাতিল: বিমানবন্দরের প্রধান পার্তাহিয়ান পানজাইতান জানিয়েছেন, ছাইয়ের কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় অন্তত ৫টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল বা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।
লাহারের (Lahar) পূর্বাভাস: আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ওই অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত হলে আগ্নেয়গিরি থেকে নেমে আসা ছাই, পাথর ও কাদার মিশ্রণে বিপজ্জনক ‘লাহার’ বা আগ্নেয় বন্যা দেখা দিতে পারে। তাই আশপাশের নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
‘পুরুষ’ ও ‘নারী’ আগ্নেয়গিরির অদ্ভুত গল্প
ইন্দোনেশীয় ভাষায় ‘লাকি-লাকি’ শব্দের অর্থ হলো ‘পুরুষ’। ১ হাজার ৫৮৪ মিটার উচ্চতার এই ‘পুরুষ’ আগ্নেয়গিরিটি বরাবরই অত্যন্ত অশান্ত ও ক্ষ্যাপাটে। তবে মজার বিষয় হলো, এর ঠিক পাশেই রয়েছে অপেক্ষাকৃত শান্ত আরেকটি যমজ আগ্নেয়গিরি, যার নাম ‘পেরেম্পুয়ান’। ইন্দোনেশীয় ভাষায় পেরেম্পুয়ান শব্দের অর্থ ‘নারী’।
এর আগে গত বছরের জুলাই মাসেও এই লেওতোবি লাকি-লাকি থেকে আকাশ অভিমুখে প্রায় ১৮ কিলোমিটার উচ্চতায় ছাইয়ের বিশাল স্তম্ভ তৈরি হয়েছিল। সে সময় বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন দ্বীপ বালির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২৪টি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছিল। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রায় ১৩০টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি নিয়ে প্রতিনিয়ত এমন অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যেই বাস করতে হয় ইন্দোনেশিয়ার মানুষকে।
এনএন/ ৫ জুন ২০২৬









