এশিয়া

ইয়েনের দরপতন রুখতে একজোট হয়ে মাঠে নামছে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র

টোকিও, ২ আগস্ট – জাপানি মুদ্রা ইয়েনের মান গত প্রায় চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসায় বাজার স্থিতিশীল করতে যৌথভাবে হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাটায়ামা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারেন বলে জানা গেছে।

জাপান সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দ্রুত অবমূল্যায়ন রোধে টোকিও ও ওয়াশিংটন সমন্বিতভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় হওয়ায় পরিচয় গোপন রাখার শর্তে তারা জানান, ইয়েনের অতিরিক্ত পতন ঠেকাতে দুই দেশই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং বর্তমানে এই অভিযান চলমান রয়েছে।

যদিও জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। বাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের পর এই প্রথম দুই দেশ মুদ্রাবাজারে এমন যৌথ পদক্ষেপ নিল। মূলত ১৯৮৬ সালের পর ইয়েন সর্বনিম্ন অবস্থানে চলে যাওয়ায় এই মান পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ।

গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের লেনদেন চলাকালে জাপান সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডলার বিক্রি করে ইয়েন কিনেছে। ব্যাংক অব জাপানের তথ্য মতে, বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৫৮ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর মুদ্রানীতির কারণে দুই দেশের সুদের হারের মধ্যে বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়েছে। আর এই ব্যবধানই ডলারের বিপরীতে ইয়েনকে দুর্বল করে দেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। সম্প্রতি ব্যাংক অব জাপানের গভর্নর কাজুও উয়েদা মুদ্রানীতি নিয়ে আলোচনার পর ইয়েনের মান কিছুটা বাড়তে দেখা যায়।

জাপানের মুদ্রানীতি কর্মকর্তা আতসুশি মিমুরা জানিয়েছেন, অর্থ মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক অত্যন্ত নিবিড়ভাবে এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগও বড় ব্যাংকগুলোকে ইয়েন বাজারে হস্তক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে।

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইয়েনের বর্তমান মানকে অত্যন্ত কম বলে অভিহিত করেছেন। এদিকে টোকিও জানিয়েছে, তারল্য সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনে ফেডারেল রিজার্ভের বিশেষ সুবিধা ব্যবহার করে ডলার সংগ্রহ করা হবে। এতে করে মার্কিন বন্ড বিক্রি না করেই ইয়েনকে সমর্থন দেওয়া সম্ভব হবে।

তবে টানা হস্তক্ষেপে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ওপর চাপের বিষয়ে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা। জাপানের অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রী মিনোরু কিউচি জানিয়েছেন, বাজারের আস্থা ধরে রাখতে সরকার সব ধরনের যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে।

এস এম/ ২ আগস্ট ২০২৬


Back to top button