জাতীয়

জ্বালানি সংকট রুখতে বড় পদক্ষেপ! ৩ দেশ থেকে ৫ কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার

ঢাকা, ৪ জুন – দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে এক বিশাল সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক বাজার ও সরাসরি চুক্তি—উভয় পদ্ধতিতেই ৩টি দেশ থেকে মোট ৫ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সুইজারল্যান্ড থেকে ২ কার্গো, যুক্তরাজ্য থেকে ২ কার্গো এবং সিঙ্গাপুর থেকে আনা হবে ১ কার্গো এলএনজি।

বুধবার (৩ জুন) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। তীব্র গরমের এই সময়ে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতেই সরকারের এই জরুরি উদ্যোগ।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দেওয়া প্রস্তাবের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ (আরএফকিউ) এবং সরাসরি ক্রয়—এই দুই পদ্ধতিতে এই এলএনজি কেনা হচ্ছে।

সিঙ্গাপুর (১ কার্গো): সিঙ্গাপুরভিত্তিক নামী প্রতিষ্ঠান ‘বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড’ থেকে কেনা হচ্ছে ১ কার্গো এলএনজি।

যুক্তরাজ্য (২ কার্গো): যুক্তরাজ্যের ‘টোটাল ইঞ্জিনিয়ারিং গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড’ থেকে সরবরাহ করা হবে ২ কার্গো এলএনজি।

সুইজারল্যান্ড (২ কার্গো): সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘এসওসিএআর ট্রেডিং এসএ’ (SOCAR Trading SA) থেকে জি-টু-জি (정부간 계약) ভিত্তিতে সরাসরি কেনা হচ্ছে আরও ২ কার্গো এলএনজি।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে কেনা ৩ কার্গো এলএনজির জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩৭২ কোটি ২১ লাখ ১৮ হাজার ৭৮৪ টাকা (এআইটিসহ)। এই এলএনজি মূলত ২০২৬ সালের ২৬ জুন থেকে ৭ জুলাইয়ের মধ্যে দেশে পৌঁছাবে (যথাক্রমে ২৬, ২৭ ও ২৮তম কার্গো হিসেবে)। প্রতি কার্গোতে এলএনজির পরিমাণ থাকবে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ (MMBtu)।

অন্যদিকে, সুইজারল্যান্ড থেকে জি-টু-জি ভিত্তিতে আনা ২ কার্গো এলএনজির মোট খরচের অংকটি এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে স্পট মার্কেটের অস্থিরতা এড়াতে নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে ‘জাপান কোরিয়া মার্কেট ফরমুলা’ (JKM + ০.১২৫ মার্কিন ডলার) অনুযায়ী সাশ্রয়ী মূল্যে এটি কেনা হচ্ছে। গত বছরের ২০ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে সুইজারল্যান্ডের এই কোম্পানির কাছ থেকে স্বল্পমেয়াদে গ্যাস আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

চলতি ২০২৬ সালের মধ্যভাগে এসে দেশের শিল্পকারখানা এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের চাহিদা তুঙ্গে। বিশেষ করে গরমের সময়ে লোডশেডিংয়ের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে এই ৫ কার্গো এলএনজি বড় ধরনের লাইফলাইন হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। সঠিক সময়ে এই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনই গতি ফিরবে শিল্পখাতেও।

এনএন/ ৪ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language