কুমিল্লা

দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসনাত আবদুল্লাহর ঝটিকা সফর, ৫ চিকিৎসককে শোকজ

কুমিল্লা, ২ জুন – কোনো আগাম বার্তা বা সাইরেন নয়, হুট করেই সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাজির স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। আর হাসপাতালে পা রাখতেই থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ল! ডিউটি ফেলে উধাও পাঁচ-পাঁচজন চিকিৎসক। সরকারি হাসপাতালের এই হযবরল দশা দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এমপি।

আজ মঙ্গলবার (২ জুন) কোনো প্রকার পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ। সেখানে চিকিৎসকদের এমন চরম গাফিলতি হাতেনাতে ধরার পর আজই কুমিল্লার জেলা সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে ওই পাঁচ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ‘কারণ দর্শানোর নোটিশ’ বা কড়া শোকজ জারি করা হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, আজ দুপুরে আকস্মিকভাবে দেবিদ্বার হাসপাতালে ঢোকেন হাসনাত আবদুল্লাহ। এরপর তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। টানা প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী হাসপাতাল পরিদর্শন করার সময় তিনি দেখতে পান, রোস্টারে নাম থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ ৫ জন চিকিৎসক তাঁদের নির্ধারিত চেয়ারে নেই।

ডিউটি ফাঁকি দেওয়া এই পাঁচ চিকিৎসকের অনুপস্থিতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার (ইউএইচএফপিও) কাছে কৈফিয়ত ও ব্যাখ্যা চান এমপি। একই সঙ্গে সরকারি নিয়ম অমান্য করা এই ডাক্তারদের বিরুদ্ধে কঠোরতম প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

ডিউটি ফাঁকি দেওয়া অভিযুক্ত ৫ চিকিৎসক হলেন:

১. ডা. সাইফুল ইসলাম শুভ

২. ডা. এস কে এম শামীম কাউসার

৩. ডা. শরিফ উদ্দিন আহম্মেদ

৪. ডা. গোলাম সারোয়ার

৫. ডা. কাজী আয়শা সিদ্দিকা

এমপির এই ঝটিকা অভিযানের পর নড়েচড়ে বসেছে কুমিল্লার স্বাস্থ্য বিভাগ। কুমিল্লা জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. রেজা মো. সারোয়ার জানান, সংসদ সদস্যের পরিদর্শনের সময় যেসব চিকিৎসক অনুপস্থিত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রাথমিক দায়িত্ব উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চিকিৎসকদের সঠিক সময়ে কর্মস্থলে থাকাটা বাধ্যতামূলক ছিল। তাঁরা এর চরম ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য সেখানে গিয়ে তাঁদের পাননি। তাঁরা কেন নির্ধারিত সময়ে অনুপস্থিত ছিলেন, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পুরো বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককেও (ডিজি হেলথ) লিখিতভাবে অবহিত করা হবে।”

গ্রামের গরিব ও সাধারণ মানুষ যেখানে সরকারি হাসপাতালের ওপর ভরসা করে চিকিৎসা নিতে আসেন, সেখানে ডাক্তারদের এমন ‘নিখোঁজ’ থাকার সংস্কৃতি বন্ধে এমপির এই আকস্মিক অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় দেবিদ্বারবাসী।

এনএন/ ২ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language