জাপানে রেকর্ড হারে কমছে জনসংখ্যা: পাঁচ বছরে কমেছে ৩০ লাখের বেশি মানুষ

টোকিও, ৩১ মে – জাপানের সর্বশেষ জাতীয় আদমশুমারিতে দেশটির জনসংখ্যা হ্রাসের এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে দেশটিতে ৩০ লাখের বেশি মানুষ কমেছে, যা জাপানের ইতিহাসে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় জনসংখ্যা হ্রাসের রেকর্ড।
সম্প্রতি জাপানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের জাতীয় আদমশুমারির এই প্রাথমিক তথ্য প্রকাশ করেছে। উল্লেখ্য যে, ১৯২০ সাল থেকে দেশটিতে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর এই শুমারি নিয়মিতভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত বছরের ১ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে মোট জনসংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৩০ লাখ ৪৯ হাজার ৫২৪ জন।
২০২০ সালের শুমারির তুলনায় এই সংখ্যাটি প্রায় ৩০ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭৫ জন কম। শতাংশের হিসেবে জনসংখ্যা হ্রাসের এই হার ২ দশমিক ৫ শতাংশ। জাপানে জনসংখ্যা কমার এই প্রবণতা প্রথম শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে জনসংখ্যা কমছে এবং এবারের শুমারিতে টানা তৃতীয়বারের মতো এই নেতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেল।
আঞ্চলিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জাপানের ৪৭টি প্রশাসনিক অঞ্চলের মধ্যে মাত্র দুটি অঞ্চলে জনসংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। রাজধানী টোকিওতে ১ লাখ ৯৯ হাজার এবং ওকিনাওয়ায় প্রায় ১ হাজার মানুষ বেড়েছে। তবে এই দুই এলাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক ধীর।
বিপরীতে বাকি ৪৫টি প্রশাসনিক অঞ্চলে জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা কমেছে হোক্কাইডোতে, যেখানে ২ লাখ ৩৯ হাজার মানুষ কমেছে। তালিকায় এরপরই রয়েছে শিজুওকা ও হিয়োগো। তবে দেশের মোট জনসংখ্যা কমলেও পরিবারের সংখ্যায় ভিন্ন এক চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে।
বর্তমানে জাপানে মোট পরিবারের সংখ্যা ৫ কোটি ৭১ লাখ ২৪ হাজার ৫০৭টি। আগের শুমারির তুলনায় এটি প্রায় ১২ লাখ ৯৪ হাজার বেশি। ১৯৭০ সাল থেকে এই সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো প্রতি পরিবারে গড় সদস্যসংখ্যা ২ দশমিক ২৬ থেকে কমে ২ দশমিক ১৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে একা বসবাসের প্রবণতা বেড়ে যাওয়াই মূলত ক্ষুদ্র পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে এই শুমারির পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এস এম/ ৩১ মে ২০২৬









