জাতীয়

কোরবানির চামড়া বাজারে বড় প্রস্তুতি সত্ত্বেও নগদ অর্থের তীব্র সংকট

ঢাকা, ২৮ মে – আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের কাঁচা চামড়ার বাজারে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন আড়তদার ও ট্যানারি মালিকরা। এবারের কোরবানির মৌসুমে চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা বেশ বড় হলেও আড়তদারদের প্রধান দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে নগদ অর্থের চরম সংকট।

ট্যানারিগুলোর কাছে আড়তদারদের বিপুল পরিমাণ বকেয়া পাওনা আটকে থাকা এবং ব্যাংকঋণ প্রাপ্তিতে অনিশ্চয়তা এই খাতকে এক জটিল পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছর দেশে এক কোটিরও বেশি পশু কোরবানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে ট্যানারি মালিকরা প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ লাখ পিস চামড়া সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছেন। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় হওয়া কোরবানির চামড়ার সিংহভাগ সরাসরি সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে তাদের। তবে প্রস্তুতির তুলনায় আর্থিক বাস্তবতাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান জানান যে বছরের এই সময়েই সবচেয়ে বেশি নগদ অর্থের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ট্যানারিগুলোর কাছে আগের পাওনা পরিশোধ না হওয়ায় আড়তদাররা বর্তমানে চরম আর্থিক চাপে রয়েছেন।

অধিকাংশ ট্যানারি ঋণখেলাপি হওয়ায় ব্যাংকগুলো থেকেও নতুন করে অর্থায়ন পাওয়া সহজ হচ্ছে না। তিনি মৌসুমী ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দেন যেন পশুর আকারের বদলে বর্গফুট হিসেবে চামড়া কেনা হয় এবং দ্রুত লবণ দিয়ে তা সংরক্ষণ করা হয়।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সাখাওয়াত উল্লাহ স্বীকার করেন যে আড়তদারদের পাওনা পুরোপুরি পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের পর কারখানাগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় না আসা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়াকে তিনি এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিশেষ করে বৈশ্বিক ভূরাজনীতি ও যুদ্ধের প্রভাবে রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। চলতি বছর চামড়া খাতের জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো ২৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও কঠোর শর্ত ও খেলাপি ঋণের কারণে প্রকৃত বিতরণ ১০০ কোটি টাকার নিচে নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সরকার ইতোমধ্যে চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়া ৬২ থেকে ৬৭ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা দরে কেনা হবে। তবে চামড়া খাতের সার্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকারের কাছ থেকে সহজ শর্তে নগদ অর্থের সহায়তা দাবি করেছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

এস এম/ ২৮ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language